চিত্রনায়ক ওমর সানী ও নায়িকা মৌসুমী দম্পতির বাসায় চুরির ঘটনার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় এবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এইচ-ব্লকের বাসায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওমর সানী। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা করা হয়েছে।
ওমর সানী জানান, ডাকাতরা পেছনের আম গাছ বেয়ে ফ্ল্যাটে ঢুকে জানালার লক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এইচ-ব্লকের বাসায় ওমর সানী তার সহকারীর সঙ্গে থাকেন। তার স্ত্রী মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ফাইজাকে নিয়ে অবস্থান করছেন, আর ছেলে ফারদিন এহসান স্বাধীন থাকেন দুবাইয়ে।
ঘটনার রাতে ওমর সানী কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে বেডরুম ভেতর থেকে বন্ধ পান। অনেক চেষ্টার পর কেয়ারটেকার ও ম্যানেজারের সহায়তায় বিকল্প পথে বেডরুমে ঢোকেন। সেখানে দরজার গ্লাস ভাঙা এবং ভেতরের অবস্থা দেখে মনে হয়, কয়েক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ওমর সানী আরও জানান, বেডরুম থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, একটি আইফোন ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। তবে একটি দামি ল্যাপটপ অক্ষত অবস্থায় ছিল। তার ধারণা, চোরদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তার ছেলে ফারদিনের ব্যবসায়িক প্রতারণা মামলার মূল দলিলপত্র।
২০২২ সালে ব্যবসায়ী নিশাত বিন জিয়া রুম্মানের সঙ্গে ফারদিনের পরিচয়ের পর তার কাছে ২ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা পুঁজি হিসেবে দেন। এ টাকাগুলো তিনি তাকে দিয়েছেন বিট কয়েন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, নিশাত নামে সেই ব্যক্তির কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তো দূরে থাক, ব্যবসায়ের বৈধ ট্রেড লাইসেন্সও নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিশাতের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে এবং মামলা করা হয়। ওই মামলার রায় শিগগিরই ঘোষণা করার কথা।
ভাটারা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, দলিলপত্র চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটি চুরির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
