মৃত্যুর খবর রয়ে যায় অগোচরে

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:০৫ এএম

ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধ আর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সংঘাতের ডামাডোলে বিশ্বের অনেক অনেক বড় ঘটনা থেকে যাচ্ছে বিশ্ববাসীর চোখের আড়ালে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশ সুদানে যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে তার খবর খুব একটা আসছে না আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। সেখানকার ভয়াবহতম মানবিক পরিস্থিতি, বিপর্যয়কর খাদ্য সংকট কিংবা প্রাণঘাতী সংঘাতের খোঁজও রাখছে না খুব বেশি মানুষ। অবশ্য দেশটির কোনো কোনো এলাকার সংঘাতের মাত্রা এতটাই বেশি যে, সেখান থেকে বাইরে তথ্য আসাটাও প্রায় অসম্ভব। সম্প্রতি জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর দারফুর রাজ্যের আল-ফাশির শহরে চলমান অবরোধের মধ্যে গত মে থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৭৮২ জন নিহত হয়েছে; অথচ এসব মৃত্যুর খবর অনেকটা আড়ালেই থেকে গেছে।  

গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং জেনারেল মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালোর অনুসারী আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ লড়াই চলছে। গত মে মাস থেকে উত্তর দারফুরের আল-ফাশের শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে আরএসএফ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, অবরোধ ও বিরামহীন লড়াইয়ে প্রতিদিন ব্যাপকহারে জীবন ধ্বংস হচ্ছে। আল-ফাশিরের অবরোধ থামাতে আরএসএফ-এর প্রতি অনুনয় জানিয়েছেন তিনি।

ভলকার তুর্ক বলেন, এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না।

র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে অবশ্যই ভয়ংকর অবরোধের ইতি টানতে হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, তারা মে মাস থেকে অন্তত ৭৮২ জন বেসামরিকের মৃত্যু এবং ১১৪৩ জনেরও বেশি আহতের তথ্য নথিবদ্ধ করেছে। যারা এই এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে আংশিকভাবে তাদের সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য সাক্ষের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়েছে।

তারা জানায়, শহরটির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আরএসএফ নিয়মিত তীব্র গোলাবর্ষণ করায় এবং সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর পৌনঃপুনিক বিমান হামলার কারণে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বেসামরিকদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ যুদ্ধাপরাধ হতে পারে।

রয়টার্স জানায়, আল-ফাশির ও এর আশপাশে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিকদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ উভয়পক্ষ বারবার অস্বীকার করে এমনটি করার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।

আরএসএফ এবং সুদানের সেনাবাহিনী ও তাদের মিত্রদের মধ্যে লড়াইয়ে আল-ফাশির সবচেয়ে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর মধ্যে একটি। সুদানের সেনাবাহিনী ও মিত্ররা দারফুর অঞ্চলে তাদের শেষ অবস্থান ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের শঙ্কা, এখানে আরএসএফ-এর জয় হলে গত বছর পূর্ব দারফুরে যেমনটি হয়েছিল এখানেও তেমন জাতিগত প্রতিশোধের ঘটনাও ঘটতে পারে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এক কোটির বেশি মানুষ। অবশ্য জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এও বলছেন, অনেক মৃত্যুর খবর তারা জানেন না। সেখানে ঘটে যাওয়া অনেক অমানবিক ঘটনাও জানতে পারছে না বিশ্ববাসী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত