বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে ইতিমধ্যে লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। গত শুক্র ও শনিবার নিম্নচাপটির প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল রবিবারও দেশের অনেকাংশের আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা ছিল। তবে শনিবার রাত ও গতকাল সকালে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নেমেছিল হাড়কাঁপানো শীত। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে (৯.৪ ডি. সে.)। কুড়িগ্রামের তাপমাত্রা অতটা না নামলেও হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হয়। ভোগান্তি পোহাতে হয় জেলার বাসিন্দাদের। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মেঘলা ভাব পুরোপুরি কেটে গেলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে।
আবহাওয়া অধিপ্তরের তথ্য বলছে, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় পৌষ মাসের শুরুতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। তবে এবার লঘুচাপের প্রভাবে এখনো তেমন তীব্র শীত পড়েনি। আরও তিন-চার দিন বিচ্ছিন্নভাবে দেশের কিছু অঞ্চলের আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। মেঘ কেটে গেলে শীত বাড়তে পারে। তবে মাসের দ্বিতীয়ার্ধের আগে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা নেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডিসেম্বর মাসে দেশের কোথায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা নেই। তবে ২৭ ডিসেম্বর পর থেকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে। আর জানুয়ারিতে শীত তীব্র হতে পারে।
গতকাল আমাদের পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, গতকাল জেলাটিতে দুই দিনের বিরতির পর ফের শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করছে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয় জেলাটিতে। এ সময়ে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তীব্র শীত পড়েছে। আর হিমালয় থেকে নেমে আসা হিমেল হাওয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে শীতের তীব্রতা। অবশ্য বেলা বাড়তে থাকলে কেটে যায় কনকনে শীতের প্রভাবও।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরেই জেলাটিতে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগীর ভিড়।
জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলী জানান, ইতিমধ্যে দুই দফায় ১২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে কম্বল ক্রয় করে বিতরণের জন্য ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে শৈত্যপ্রবাহের কবলে না পড়লেও উত্তরের আরেক জেলা কুড়িগ্রামের মানুষ পড়েছে হাড়কাঁপানো শীতের কবলে। হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ¦ালিয়ে চলছে যানবাহন।
আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকালে জেলাটির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, লঘুচাপের কারণে আকাশে মেঘ থাকায় কুয়াশার উপস্থিতি বাড়ছে। সেইসঙ্গে শীতল বাতাস শীতের অনুভূতি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, লঘুচাপ সরে গেলে তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় জেলার জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, খেটেখাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষরা। জেলা সদরের হলোখানা ইউনিয়নের ট্রলিচালক ফরিদ বলেন, তীব্র শীতের কারণে চার-পাঁচ দিন ধরে ট্রলি চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। আয়ও কমে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার শীতার্তদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দের ২৭ লাখ টাকা ও ১২ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
