মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো লাইন থেকে এক চা শ্রমিকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম গোপাল বাক্তি (৩৬)। গত রবিবার দুপুরে নিহতের স্বজনের উপস্থিতিতে বিজিবি ও পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। গোপাল উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানের মোকাম সেকশনের সাবেক ইউপি সদস্য অকিল বাক্তির ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, অসাবধানতাবশত সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে গেলে গোপালকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন শ্রমিক ছিল। তারা বিএসএফের গুলির ভয়ে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। বিজিবি লাশ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
স্থানীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার সকালে চা শ্রমিক গোপাল বাক্তিসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক বাঁশ কেটে আনতে পাথারিয়া পাহাড়ের দুর্গম জঙ্গলে যান। সেখান থেকে রাত পর্যন্ত বাড়ি ফেরেননি গোপাল। বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রবিবার ভোরের দিকে তারা খবর পান বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের বিওসি টিলা বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী জিরো লাইনের গভীর জঙ্গলে একটি লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে বিজিবি ও থানা পুলিশ স্বজনদের নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে গোপালের লাশ শনাক্ত করে।
শ্রমিকদের বরাত দিয়ে দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইমরান আহমদ বলেন, গোপালসহ আরও কয়েকজন দিনমজুর পাহাড়ে বাঁশ কাটতে যান। এ সময় বিএসএফ গুলি করলে গোপাল বাক্তি নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। ভয়ে, তারা মুখ খুলেননি।
গোপালের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য অকিল বাক্তি বলেন, পাহাড়ে বাঁশ আনতে গিয়েছিল আমার ছেলে। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তারা সেখান থেকে এসে জানিয়েছে, বিএসএফ তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনায় ন্যায়বিচার চাই।
