ঢাকা মেট্রোকে রেকর্ড ৬২ রানে বেঁধে দেওয়ার পর ৫২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়েছে রংপুর। ১৪ বছর পর মাঠে গড়ানো জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে রংপুর বিভাগ। এর আগে ২০১০ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে টস জিতে আগে বোলিংয়ে নামা রংপুরের হয়ে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে রাকিবুল হাসানকে আবদুল্লাহ আল মামুনের ক্যাচে পরিণত করেন আলাউদ্দীন বাবু। যেটি তার ম্যাচের তৃতীয় ও আসরের ১৯তম উইকেট। বনে যান আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীও। সেই সঙ্গে শিরোপা লড়াইয়ে মাত্র ৬২ রানে অলআউট হয়ে যায় গ্রুপ পর্বে ৭টির সবকটিতে জিতে আসা ঢাকা মেট্রো।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে হোঁচট খেতে হয় রংপুরকেও। ১৮ রান তুলতেই ৪ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে দলটি। তবে এর পর আরিফুল হক ও আনামুল হকের ১৪ রানের দুটি ইনিংসে বাকি রান তুলে ফেলতে সমস্যা হয়নি। দলীয় ৪২ রানে আরিফুল ফিরলেও দায়িত্ব নিয়ে এক প্রান্ত আগলে রেখে রংপুরের কাজ সহজ করে দেন তানবির হায়দার। ৮ রানে আনামের সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন তিনিও। ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৮ রানে ১ উইকেট নেন মেট্রোর আবু হায়দার রনি। আলিস আল ইসলাম ২টি ও রাকিবুল ১টি উইকেট নেন।
এর আগে ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই পেশী শক্তির প্রদর্শন দেখায় রংপুর। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং আলাউদ্দীন বাবুর বোলিং তোপে পাঁচ ওভার না যেতেই ১৬ রানে ঢাকা মেট্রোর ৫ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরে যেতে হয়। সিলেটের চোখ ধাঁধানো স্টেডিয়ামে মুগ্ধ ৩টি ও বাবু তখন ২টি উইকেট শিকার করেন। ঢাকা মেট্রোর ব্যাটিং ধসের শুরুটা করেন মুগ্ধ। তৃতীয় বলেই তিনি ফেরান ইমরানুজ্জামানকে। পরের ওভারে বাবুর হাতে বল তুলে দেন রংপুর অধিনায়ক আকবর আলী। মেট্রো অধিনায়ক ও আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নাইম শেখকে শূন্য রানেই থামিয়ে দেন বাবু।
তৃতীয় ওভারে পর পর দুই বলে আনিসুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের উইকেট তুলে নেন মুগ্ধ। পঞ্চম ওভারে বাবু এসে তুলে নেন তাহজিবুল ইসলামের উইকেট। ষষ্ঠ ওভার মেডেন দেন রবিউল হক। তাতে পাওয়ার প্লেতে ১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাকফুটে চলে যায় ঢাকা মেট্রো। শামসুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সেই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেন কিছুক্ষণ। ১৭ রানের সেই জুটি ভাঙে শামসুরের বিদায়ে। বাকিরা কিছু রান যোগ করলেও আর ম্যাচে ফেরা হয়নি মেট্রোর।
এই প্রথম কোনো দল দেশের স্বীকৃত কোনো টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনালে ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো। ৩.৩ ওভারে ১২ রানে ৩ শিকার বাবুর। ৪ ওভারে মুগ্ধর বোলিং ফিগারও ১২/৩। ১টি করে উইকেট পান চৌধুরী রিজওয়ান, রবিউল হক ও আরিফ আহমেদ। শামসুর শুভ ১৪ ও আবু হায়দার রনি ১৩ রান করেন মেট্রোর হয়ে।
ফাইনালে মেট্রোকে রেকর্ড ৬২ রানে বেঁধে দিলেন রংপুরের বাবু
সিনার ও সাবালেঙ্কার উত্থানের বছর
হামজা কি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা