এক দশকের চেষ্টার ফল মোসাদের

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৩৭ এএম

সেপ্টেম্বরে লেবাননে দুটি পৃথক ঘটনায় কয়েক হাজার পেজার এবং ওয়াকিটকি বিস্ফোরিত হয়ে বহু লোক নিহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। দুজন সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে তৈরি ওয়াকিটকি ও পেজার ব্যবহার করেছিল এবং সেগুলোর মধ্যে বিস্ফোরক ছিল। তারা ১০ বছর ধরে এগুলো ব্যবহার করেছে।

এই দুই সাবেক মোসাদ কর্মকর্তার সঙ্গে সিবিএস নিউজের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, হিজবুল্লাহকে ধোঁকা দিয়ে হাজার হাজার ওয়াকিটকি এবং পেজার বিক্রি করা হয়েছিল। তারা জানত না, সেগুলো ইসরায়েলে তৈরি।

হামলার সময়, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। ২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের একদিন পর থেকেই সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এক সঙ্গে হাজার হাজার পেজার বিস্ফোরিত হয়ে ব্যবহারকারীরা ও আশপাশের মানুষ আহত বা নিহত হন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন একইভাবে ওয়াকিটকির বিস্ফোরিত হয়ে আরও শত শত লোক নিহত বা আহত হয়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুই মাস পরে স্বীকার করেন, হামলার জন্য ইসরায়েল দায়ী ছিল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম সেই সময় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবার সিবিএসের সাক্ষাৎকারে দুই সাবেক কর্মকর্তার একজন মাইকেল (ছদ্মনাম) জানান, মোসাদ ওয়াকিটকির ব্যাটারির ভেতরে বিস্ফোরক যন্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। এটি সাধারণত ব্যক্তি নিজের পরা ভেস্টের ভেতরে (হৃৎপিণ্ডের কাছাকাছি) নিয়ে চলাচল করত। তিনি বলেন, ১০ বছর আগে হিজবুল্লাহ না জেনে একটি ভুয়া কোম্পানি থেকে ‘ভালো দামে’ ১৬ হাজারের বেশি ওয়াকিটকি কিনেছিল।

এই অপারেশনে দুই বছর আগে পেজারও অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয় বলে সিবিএস জানিয়েছে। সিবিএস জানায়, মোসাদ পেজারগুলোর মধ্যে এমন বিস্ফোরক রেখেছিল যা শুধু ব্যবহারকারীকে আঘাত করতে পারে।

মোসাদ বলেছে, হিজবুল্লাহর একটি তাইওয়ানি কোম্পানি গোল্ড অ্যাপোলো থেকে পেজার কেনার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছিল। তারা একটি ভুয়া কোম্পানি তৈরি করেছিল। এটি গোল্ড অ্যাপোলো নাম ব্যবহার করে বিস্ফোরক রাখা পেজার বিক্রি করছিল এবং মূল কোম্পানি কিছুই জানত না।

দ্বিতীয় এজেন্ট গ্যাব্রিয়েল (ছদ্মনাম) বলেন, আমরা সবকিছু তিন বার, দুই বার, বহুবার পরীক্ষা করি, যাতে ক্ষতি কম হয়। তিনি বলেন, মোসাদ হিজবুল্লাহকে পেজার কেনার জন্য ধোঁকা দিয়েছে, বিজ্ঞাপন তৈরি করেছিল এবং সেগুলো ইন্টারনেটে শেয়ার করেছিল।

সিবিএস জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিজবুল্লাহ ৫ হাজার বিস্ফোরক পেজার কিনেছিল। যখন মোসাদ ভেবেছিল, হিজবুল্লাহ সন্দেহ করতে শুরু করেছে, তখন পেজারগুলো ইসরায়েল থেকে ট্রিগার করা হয়েছিল। বিস্ফোরণগুলো লেবানন জুড়ে শকওয়েভ তৈরি করেছিল। পেজারগুলো যেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এর মধ্যে সুপারমার্কেটও ছিল। হাসপাতালগুলো আহতদের ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল, অনেকেরই অঙ্গহানি হয়েছিল।

কয়েক দিন পর যখন হিজবুল্লাহ আক্রমণের ধাক্কা সামলাচ্ছিল, তখন ইসরায়েল হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। তারপরে লেবাননে স্থল অভিযান চালায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত