মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই বাধাহীন ভাবে ফেলা হচ্ছে রেষ্টুরেন্ট, বাসাবাড়ি ও ক্লিনিকের বর্জ্য-উচ্ছিষ্ট। দিনের পর দিন ময়লার স্তূপ বড় হলেও তা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রভাবশালী আর সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই ফেলা হচ্ছে এসব ময়লা আবর্জনা। এ দৃশ্য উপজেলার ভবেরচর বাস স্টান্ডস্থ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লাগামী লেনে মোহাম্মদ আলী প্লাজার পশ্চিম পার্শ্বে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে। উৎকট দুর্গন্ধকে সঙ্গী করে পথ চলছেন এই পথে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মহাসড়ক সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভের পাশেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, কর্কশিট, পলিথিন, বস্তা, উচ্ছিষ্ট খাবার, রক্ত মাখা ব্যান্ডেজ, ব্যবহৃত সূঁচ, সিরিঞ্জ, রক্তযুক্ত তুলা, গজ, ওষুধের বোতল, স্যালাইনের ব্যাগ, রক্তের ব্যাগসহ সর্বপ্রকার মেডিকেল বর্জ্য-আবর্জনায় স্তূপ হয়ে আছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় একাধিক রেস্টুরেন্ট, বেসরকারি ক্লিনিক ও আশপাশের দোকান পাটের বিভিন্ন বর্জ নির্বিঘেœ এখানে ফেলা হচ্ছে। পরিবেশের তোয়াক্কা না করে খেয়াল খুশি মতো মহাসড়ক ঘেঁষেই ফেলা হচ্ছে এসব। কখনো কখনো ফেলে যাওয়া বর্জ্য এসে পড়ছে মহাসড়কের ওপর।
ময়লা ফেলতে আসা এক ব্যক্তি জানান, ‘দিন আর রাত নাই। যখন সময় পাই তখনই ফেলাই।’ কেউ বাধা দেয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি জায়গায় ময়লা ফেললে কে বাধা দেব।’
পথচারী কারখানার শ্রমিক হোসেন বলেন, ‘আশপাশের রেস্টুরেন্ট মালিকরা স্থানীয় হওয়ায় সবাইকে ম্যানেজ করেই এখানে বর্জ ফেলে। তাই দ্বায়িত্বশীলরা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়।’
আরেক নারী পথচারী বলেন, ‘এই পথে সারাক্ষণই আসে উৎকট দুর্গন্ধ। হেঁটে গেলে দম বন্ধ হয়ে আসে। সড়কের পাশে হাঁটার জায়গায়ও ময়লা ফেলে দখল করে নিয়েছে।’
উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফারহানা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা উপজেলা প্রশাসন দেখতে পারেন। তারপরও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিষয়টা আমি দেখব।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘এই বিষয় আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করব। সেই সঙ্গে এই স্থানটি পরিষ্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করব।’
