মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের প্রথম দিনে অভিষিক্ত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার স্যাম কনস্টাসকে ধাক্কা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছেন ভারতের ব্যাটিং কিং বিরাট কোহলি। খোদ ভারতীয় সাবেকরাই তার সমালোচনা করছেন। এই ঘটনায় কোহলির শাস্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই শাস্তি কোন মাত্রার হবে- তা নির্ভর করছে ম্যাচ রেফারির তদন্তের ওপর।
ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের দশম ওভারের শেষে। মোহাম্মদ সিরাজ সেই ওভার শেষ করার পর দিক পরিবর্তন করার জন্য হেঁটে আসছিলেন কোহলি। উল্টো দিক থেকে আসছিলেন কনস্টাসও। এমন সময় দুজনের সংঘর্ষ হয়। রেগে গিয়ে কনস্টাস কোহলিকে কিছু একটা বলেন। এতে আরও চটে যান কোহলি। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে রক্তচক্ষু দেখিয়ে কনস্টাসকে কিছু একটা বলতে থাকেন।
এসময় আরেক ওপেনার উসমান খাজা এসে পরিস্থিতি সামলান। দুজনকে বুঝিয়ে তিনি আলাদা করে দেন। ঝামেলা থামাতে এগিয়ে আসেন আম্পায়ারেরাও। বার বার সেই ঘটনার রিপ্লে দেখাতে থাকে সম্প্রচারকারীরা। সেখানে অবশ্য দেখা গেছে, কনস্টাস মাথা নিচু করে ব্যাট হাতে যাচ্ছিলেন। কোহলিই যাওয়ার পরে দিক পরিবর্তন করে কনস্টাসের কাছে গিয়ে তাকে গিয়ে ধাক্কা মারেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ফক্স ক্রিকেট ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় বলেছেন, ‘কোহলি ওই মুহূর্তের কথা মনে করে গর্ব অনুভব করবে না। কনস্টাস স্রেফ হেঁটে যাচ্ছিল। কোহলিকে দেখুন, সে তার পথের দিক পাল্টেছে। যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সর্বকালের সেরা কিংবদন্তিদের একজন হিসেবে কোহলি অবশ্য কৃতকর্ম নিয়ে ভাববে।’
ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার সুনীল গাভাস্কার অবশ্য দুজনের দোষই দেখছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরে গেলে কেউ ছোট হয়ে যেত না। প্রথমে মনে হয়েছিল যে, দুজনেই নিচে তাকিয়ে ছিল। এখন দেখার বিষয়, কাকে বেশি জরিমানা দিতে হয়।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘আম্পায়ার এবং রেফারি বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখবেন। বেশ কিছু অ্যাঙ্গেল থেকে আমরা ঘটনাটি দেখেছি। মেনে নিচ্ছি ওই সময় তাদের (ভারতের ফিল্ডার) কোনো অবস্থাতেই ব্যাটসম্যানের ধারেকাছে যাওয়ার কথা নয়। ব্যাটসম্যানরা কোথায় একসঙ্গে দাঁড়ায় সেটা সবাই জানে। আমার কাছে মনে হয়েছে, কনস্টাস অনেক দেরিতে খেয়াল করেছে। সে ভাবতেও পারেনি কেউ তার সামনে থাকতে পারে।
পন্টিং আরও বলেছেন, ‘তাকে (কোহলি) বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে। ব্যাটিংয়ের সময় উইকেট ব্যাটসম্যানের। ক্রিজও তার। বিশেষ করে দুটি ওভারের মাঝের মুহূর্তে। তখন কোনো বোলার বা ফিল্ডারের ব্যাটসম্যানের ধারেকাছে থাকার দরকার নেই। কিন্তু আমরা কনস্টাস ও কোহলির মাঝে শারীরিক সংঘর্ষ হতে দেখলাম। কোহলি কীভাবে হেঁটেছে দেখুন। কোনো সন্দেহ নেই যে, কোহলি পিচের দিকে হেঁটে সংঘর্ষটা উস্কে দিয়েছে।’
ক্রিকেট আইনের ২.১২ ধারা অনুযায়ী ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফ, আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারি বা অন্য কারও (দর্শক) সঙ্গে অনুপযুক্ত শারীরিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোনো ক্রিকেটার ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেপরোয়াভাবে ক্রিকেটার বা আম্পায়ারকে ধাক্কা দিলে সেটা লেভেল টু পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে দোষী ক্রিকেটার তিন থেকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেতে পারেন।
হাঁটুর বয়সী ক্রিকেটারকে ধাক্কা, শাস্তির মুখে বিরাট কোহলি
স্কুপ, রিভার্স স্কুপে বুমরাকে কাঁদিয়ে ছাড়লেন ১৯ বছরের কনস্টাস
চার পেসার ও বাবরকে নিয়ে মাঠে নামছে পাকিস্তান
বড়দিনে মেয়ের জন্য সান্তাক্লজ সাজলেন বিখ্যাত এই ক্রিকেটার
মান বাঁচাতে আর্জেন্টিনার ‘নতুন মেসি’কে দলে টানছেন গার্দিওলা
মিরপুরের মতো অনুশীলন সুবিধা সারাদেশে চান সাব্বির