চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারকি সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতের একমাত্র পথ শহীদ নুর হোসেন সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। এর ফলে ওই এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, পরিবেশ দূষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শাহাদতনগর জালিয়াঘাটা থেকে রাঙ্গাদিয়া বাজারের মাঝপথে শহীদ নুর হোসেন সড়কের এক পাশে ১০০ মিটার এলাকায় সিইউএফএল হাউজিং কলোনির গাড়ি দিয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে। দুর্গন্ধে পাশের এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আবর্জনায় অপচনশীল প্লাস্টিক ও পলিথিন থাকায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ঘেঁষে প্রায় ১০০ মিটার খালি জায়গা জুড়ে ময়লার ভাগাড়। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভাঙারি খুঁজছে বেশ কয়েকজন শিশু-কিশোর। উচ্ছিষ্ট খাবারের খোঁজে বিচরণ করছে গবাদি পশু। ময়লার স্তূপে উড়ছে মশা-মাছি ও পাখি। আগুনে পোড়ানো হচ্ছে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্য। দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে হাঁটছে পথচারীরা। গাড়ির সাইড দিতে গিয়ে ময়লার ওপর চলছে যানবাহন।
ময়লার স্তূপের পাশেই নবাব গ্রুপ অব কোম্পানির বিশাল জায়গা। ওই জায়গা দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন মো. ইসমাঈল। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এখানে সিইউএফএলের ময়লা ফেলা হচ্ছে। ময়লার স্তূপের উচ্ছিষ্ট খাবারের সঙ্গে পলিথিন খেয়ে অনেক গরু অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এ রকম অনেক গরু জবাই করে দিয়েছি আমি।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। শিশুদের মধ্যে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।’
চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। পরিবেশ দূষণ হোক, সেটা আমি চাই না। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সেটা সিইউএফএলের জায়গা কি না জানি না। তবে তাদের জায়গা হলেও কিছুতেই পরিবেশ দূষণ করা যাবে না। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
