অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান মেলবোর্ন টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। দলের মহাবিপদের মাঝে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে বড় জুটি গড়ে ফলোঅন এড়ান। তারপর খেলেন ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যা তার ছোট্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু কীভাবে জাতীয় দলে এলেন ২১ বছরের পেস বোলিং অল-রাউন্ডার? পেছনের গল্পটা কী?
১২ বছর বয়সে নিতিশকে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার তথা সাবেক জাতীয় নির্বাচক এমএসকে প্রসাদের কাছে নিয়ে যান তরা বাবা মুতিয়ালা রেড্ডি। নেটে নিতিশের ব্যাটিং-বোলিং দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে ক্রিকেটার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন এমএসকে প্রসাদ। তিনি তখনই অন্ধ্রপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) সঙ্গে কথা বলে প্রতি মাসে নিতিশের পেছনে মাসে ১৫ হাজার রুপি খরচের ব্যবস্থা করেন।
বলা বাহুল্য যে, নিতিশের খেলাধুলা ও পড়াশোনার জন্য সেই অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল এসিএ। সেই ১৫ হাজার রুপিই তার জীবন বদলে দেয়। এমএসকে প্রসাদ বলেন, ‘নিতিশের সাফল্যের নেপথ্যে এসিএর অনেক অবদান। প্রথমবার দেখেই বুঝেছিলাম, ছেলেটার মাঝে প্রতিভা আছে। তারপর এসিএ সিদ্ধান্ত নেয়, একটা সময় পর্যন্ত প্রতি মাসে তার জন্য ১৫ হাজার রুপি খরচ করবে। ওই সহায়ত পেয়েছিল বলেই নিতিশ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছে। তার সাফল্যে আমি খুব খুশি।’
শুধু টাকা দিয়ে তো আর ক্রিকেটার হওয়া যায় না, নিতিশ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার সেই পরিশ্রম কাছ থেকে দেখেছেন প্রসাদ। তিনি বলেন, ‘নিতিশ কোনোদিন ফাঁকি দেয়নি। প্রতিদিন কঠিন পরিশ্রম করত। তার একটাই স্বপ্ন ছিল- ভারতীয় দলে খেলতে হবে। নীরবে নিজের কাজটা করে গেছে। সে ক্রিকেট ভালোবাসে। সেই ভালোবাসা তাকে সম্মান এনে দিয়েছে। তার পরিবার যে ত্যাগ করেছে, সেটার পুরস্কার তারা পেয়েছে।’
নিতিশ গত আইপিএলে ভালো খেলায় এবার তাকে পেতে একাধিক দল আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬ কোটি রুপিতে তাকে ধরে রাখে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। নিজের রাজ্যের দলের হয়ে খেলবেন বলে ১৫ কোটির লোভ সামলান নিতিশ। যাদের কারণে তার জাতীয় দলের ক্রিকেটার হয়ে ওঠা, সেই হায়দরাবাদকে ছাড়তে চাননি নিতিশ। মেলবোর্নে ছেলের সেঞ্চুরির পর এই তথ্য জানিয়েছেন নিতিশের বাবা মুতিয়ালা রেড্ডি।
তিনি বলেন, ‘আইপিএলের একাধিক দল নিতিশকে পেতে চেয়েছিল। ১৫ কোটির বেশি রুপির প্রস্তাবও ছিল। কিন্তু নিতিশ বলল- “এতদিন কারা আমাদের পাশে ছিল? কাদের হয়ে খেলে প্রচার পেয়েছি?” আমি হায়দরাবাদের কথা বলতেই নিতিশ বলেছিল, “তাহলে কেন দল ছাড়ব? বেশি টাকার জন্য দলবদল করলে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে হবে। ব্যর্থ হলে তারা বসিয়ে দিতে পারে। কিন্তু হায়দরাবাদের হয়ে দুই ম্যাচ খারাপ খেললেও দল পাশে থাকে। খেলার সুযোগ দেয়।” নিতিশের ভাবনাটা খারাপ লাগেনি। তাই টাকার পেছনে না ছুটে নিলামের আগে হায়দরাবাদের সঙ্গে চুক্তি নবায়নে সম্মতি দিয়েছিলাম।’
অথচ ছোটবেলায় ক্রিকেটার নন, অভিনেতা হতে চেয়েছিলেন নিতিশ। কিন্তু তার পিতা চাইতেন ছেলে হোক ক্রিকেটার। বিসিসিআইকে নিতিশ কুমার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে ছোটবেলায় ক্রিকেট খুব একটা ভালো লাগত না। তবু আমার ভবিষ্যতের জন্য বাবা সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমার জন্য প্রচুর কষ্ট করেছেন বাবা। একদিন দেখি বাবা কাঁদছেন। তখন আমাদের প্রবল আর্থিক সমস্যা। সেই সময় সবকিছুই অনিশ্চিত মনে হতো। কিন্তু কষ্টের মধ্যেও বাবা সব সময় আশা দেখতেন। তখন থেকে মন দিয়ে ক্রিকেট খেলতে শুরু করি। ভারতীয় দলের প্রথম জার্সিটা বাবার হাতে তুলে দিয়েছিলাম। সেদিন বাবা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন।’
বুমরার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে উল্টো বিপদে অস্ট্রেলিয়া
সিরাজকে আউট দিলেন না সৈকত; রাগে ফেটে পড়লেন কামিন্স
পান্তকে যে কারণে তিনবার ‘স্টুপিড’ বললেন গাভাস্কার
কনস্টাসের কোচকে বাংলাদেশে আসতে বলেছিলেন হাথুরুসিংহে