চলতি বছরে রাশিয়ার কুর্স্ক অঞ্চলের কিছু এলাকা দখল করেছিল ইউক্রেন। তবে এক ঝটিকা আক্রমণে দখল করা অঞ্চলের অর্ধেক হারায় তারা। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দখলে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ডও হারাতে পারে কিয়েভ। এর ফলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দুর্বল অবস্থানে পড়ে যেতে পারে ইউক্রেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে বলছে, ইতিমধ্যেই জনবল ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মিত্রদের কাছ থেকে রসদ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। এর মধ্যেই পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রাভিযান ঠেকাতে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে কিয়েভকে।
সংবাদমাধ্যমটি পশ্চিম রাশিয়ার যে কুর্স্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনী কিছু এলাকা দখল করেছিল, সেখানেও তারা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রায় ১২ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ার পক্ষে যোগ দেওয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধও শক্ত হয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, মস্কো যদি আগামী মাসের মধ্যেই কুর্স্ক থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরাতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে, তাহলে ইউক্রেনের সেনারা হয়তো বড়জোর বসন্ত পর্যন্ত দখল ধরে রাখতে পারবে। এরপর তারা পিছু হটতে বাধ্য হবে, কিংবা চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এই পরিস্থিতির সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কুর্স্ক দখল করা ভূখণ্ডকে তারা আলোচনার টেবিলে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন। তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার দাবির জটিলতার কারণে দুপক্ষকে চূড়ান্ত সমঝোতায় আসতে মাসের পর মাস লেগে যেতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। রাশিয়াকে যদি নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, আগামী এক বা দুই দশক ইউক্রেনকে নাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে না, তাহলে আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব এসেছে বলে যে খবর বেরিয়েছে, সে সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। এমন কোনো চুক্তি রাশিয়ার জন্য কার্যকর হবে না বলেও পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রাশিয়া এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় আলোচনা বিলম্বিত করার কৌশল নিতে পারে। আলোচনার আগে যতটা সম্ভব দখল হয়ে যাওয়া এলাকা ইউক্রেনের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যেতে চায় মস্কো। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এ-ও বলেছেন, যত দিন দখলে রাখার পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়েও বেশি সময় কুর্স্কে টিকে আছে ইউক্রেন। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন।
আরেকজন কর্মকর্তা বলেছেন, কুর্স্কের দখল ধরে রাখা ইউক্রেনের মূল লক্ষ্য ছিল না। এই আকস্মিক পাল্টা আক্রমণ ছিল রুশ বাহিনীকে দুর্বল করার কৌশল। ফলে এ অঞ্চল থেকে ইউক্রেন কৌশলগতভাবে পিছু হটলেও সেটিকে সাফল্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ব্যাপক হারে হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে কুর্স্ক থেকে তার সৈন্যদের দ্রুত পিছু হটার নির্দেশ দেবেন।
এদিকে রুশবাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে পোকরভস্ক শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। পোকরভস্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব। এখান থেকে ইউক্রেনের বাহিনী ফ্রন্টলাইনে সেনা আনা-নেওয়া করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, ইউক্রেনের বাহিনী কিছু সময়ের জন্য পোকরভস্ক রক্ষা করতে পারলেও একসময় রুশ বাহিনী ঠিকই শহরটিকে ঘিরে ফেলতে পারবে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে হয় পিছু হটতে হবে, নয়তো আত্মসমর্পণ করতে হবে।
