জার্মানির উগ্র ডানপন্থি দল অলটারনেটিভ ফর ডয়চল্যান্ডকে (এএফডি) সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক-বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক। কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত এই দলটিকে সমর্থন জানিয়ে জার্মানির সংবাদমাধ্যম ভেল্ট আম সনটাগে একটি কলাম লিখেছেন তিনি। তাতে তিনি এএফডিকে জার্মানির ‘শেষ আশার আলো’ বলে মন্তব্য করেন। জার্মানিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ইলন মাস্কের এমন সমর্থন নিয়ে জার্মান রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, কলামটি অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমটির মতামত বিভাগের এডিটর ইভা মারিয়ে কোগেল পদত্যাগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানান। জার্মান সংবাদমাধ্যমে মতামত প্রকাশের আগে গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক বলেন, একমাত্র এএফডি-ই জার্মানিকে রক্ষা করতে পারে। বলা হচ্ছে, এক্সে দেওয়া ওই বার্তার বিস্তারিত জানাতেই মতামত লেখেন তিনি। মাস্ক লিখেছেন, এএফডিকে যেভাবে কট্টর ডানপন্থি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দলের প্রধান আলিসে ভিডেলের একজন শ্রীলঙ্কান সমলিঙ্গের সঙ্গী রয়েছেন। এটি কী আপনাদের কাছে হিটলারের মতো মনে হয়? মাস্কের দাবি, জার্মানির অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে শক্ত অবস্থান অবলম্বন করেছে এএফডি। তিনি লিখেছেন, ডানপন্থি দল হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এএফডি একটি রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিনিধিত্ব করে। বিষয়টি অনেক জার্মানের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়, যারা মনে করে, তাদের উদ্বেগগুলো কর্র্তৃপক্ষ অবহেলা করছে। এটি বর্তমানের সমস্যাগুলোকে সমাধান করছে রাজনৈতিক শুদ্ধতা ছাড়া, যা অনেক সময় সমস্যাকে ঢেকে দেয়।
মাস্ক আরও লিখেছেন, নিয়ন্ত্রিত অভিবাসননীতির পক্ষে এএফডি, যা জার্মান সমাজে একীভূতকরণের বিষয়টি এবং জার্মানির সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়। এর সঙ্গে জেনোফোবিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বরং এটি নিশ্চিত করে, বিশ্বায়নের দিকে ছুটতে গিয়ে জার্মানি নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলছে না।
এদিকে মাস্কের কলামের পরই তার সঙ্গে দ্বিমত করে আরেকটি মতামত প্রকাশ করেন সংবাদমাধ্যমটি ভবিষ্যৎ এডিটর-ইন-চিফ ইয়ান ফিলিপ বুরগার্ড। তিনি লিখেছেন, মাস্ক যেভাবে বিশ্লেষণ করেছেন, তা সঠিক কিন্তু সমস্যা সমাধানে তার যে পদক্ষেপ, অর্থাৎ একমাত্র এএফডি-ই জার্মানিকে রক্ষা করতে পারবে, তা মারাত্মক ভুল। শুধু সাংবাদিকই না, অনেক সংসদ সদস্যও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কোনো কোনো সাংসদ মাস্ক জার্মানির রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং রক্ষণশীল দল সিডিইউর সাংসদ ইয়েনস স্ফান এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ইলন মাস্ক বলছেন, এএফডিকে যেভাবে দেখানো হয়, তার বাইরে গিয়ে দেখুন। তাহলে চলুন দেখি : ন্যাটো ত্যাগ করতে চায় এএফডি, নর্ড স্ট্রিম দুই আবার চালু করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী, পুতিনের সমর্থক, রাশিয়ার সমর্থক এএফডি। যুক্তরাষ্ট্র কি এটাই চায় যে, এমন এক জার্মানি যেটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে গিয়ে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ুক?
