বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একাদশ আসর দিয়ে শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে তারুণ্যের উৎসবের কার্যক্রম। প্যারিস অলিম্পিকের ধারণা থেকে বিপিএলকে শুধু ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ না রাখার নিমিত্তে হয়েছে কনসার্ট, ট্রফি ট্যুর; আগামীতেও আছে অনেক আয়োজন। তারুণ্যের উৎসবের এই বিপিএলকে ব্যাট বা বল হাতে রাঙিয়ে দিতে পারেন এমন সম্ভাব্য তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়েই দেশ রূপান্তরের বিশেষ আয়োজন
জিশান আলম
বাবা জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন উইকেটরক্ষক ও টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতাটা খুব সুখকর ছিল না তার। ছেলে জিশান আলমকে তাই ছোট থেকেই এমনভাবে তৈরি করেছেন যে তার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা যেন না হয়! কথা রেখেছেন জিশান, মাত্র ২০ বছর বয়সী ডানহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ঘিরে এখনই আগ্রহ দেখাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ড্রাফটের আগে দুর্বার রাজশাহী সরাসরি চুক্তি সেরে ফেলেছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ক্রিকেটারের সঙ্গে। সিলেটে হয়ে যাওয়া এনসিএল টি-২০-তে সাত ম্যাচের সাত ইনিংসে জিশানের রান ২৮১। এক সেঞ্চুরি আর দুই হাফসেঞ্চুরি। জিশানকে ঘিরে সম্ভাবনার কারণ, তার আছে অনায়াসে ছক্কা মারার সহজাত সামর্থ্য। এনসিএলে জিশান মেরেছেন ২২টি ছক্কা, সবচেয়ে বেশি। আর কেউ ২০টি ছক্কাও মারতে পারেননি। স্ট্রাইকরেট ১৫৮+। বয়সভিত্তিক এবং ঘরোয়া আসরে জিশান নিজেকে চিনিয়েছেন, এবার আরেকটু বড় স্তরে নিজেকে চেনানোর পালা জিশানের।
হাবিবুর রহমান সোহান
ঘরোয়া ক্রিকেটে নামটা একেবারে অচেনা নয়। গত মৌসুমের বিপিএলে খেলেছিলেন খুলনা টাইগার্সের হয়ে। এবার তার দল ঢাকা ক্যাপিটালস। এনসিএলে ১৭ ছক্কা আর ১৬০+ স্ট্রাইকরেট নতুন করে আলোচনায় এনেছে বছর পঁচিশের এই ক্রিকেটারকে। ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সোহানকে একাদশে জায়গা পেতে অবশ্য লড়তে হবে লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিম এবং জনসন চার্লসদের সঙ্গে। হয়তো শুরুতেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের জায়গাটা তাকে দেবে না রাজধানীর নতুন দলটি। অনুশীলনে নিজেকে মেলে ধরে একাদশে জায়গা পেয়ে সেটা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ তার সামনে। সেটা উতরে যেতে পারলেই বোঝা যাবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্যও তার প্রস্তুতি সম্পন্ন। না হলে হয়তো ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত মুখদের একজন হয়েই থেকে যেতে হবে তাকে। এনসিএল টি-২০তে সোহান ৭ ম্যাচে সমান ইনিংসে করেছেন ২৫৯ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬০। ফিফটি ১টি হলেও বেশ কিছু ছোট ছোট কার্যকর ইনিংস আছে তার।
আজিজুল হাকিম তামিম
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। এনসিএল টি-২০-তে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইনিংসের সূচনায় নেমেছিলেন খুলনা বিভাগীয় দলের হয়ে। তাকে বিপিএলে দলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। মিকি আর্থার, মোহাম্মদ আশরাফুল; এই দুজনের কাছ থেকে যতটা সম্ভব শুষে নেওয়া উচিত উঠতি এই ক্রিকেটারের। সামর্থ্যরে সঙ্গে শীতল একটা মস্তিষ্কেরও অধিকারী যুব অধিনায়ক, তার সঙ্গে যদি ওপরের দুজনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান যোগ হয় তাহলে ক্যারিয়ারে একটা বড় লাফ দিতে পারেন এই তামিম। এনসিএলে খুলনার হয়ে খেলে তামিম ৯ ইনিংসে করেছেন ২৩৭ রান, স্ট্রাইকরেট ১৩৬+। ছক্কা মেরেছেন ১৬টি। অনুশীলনে নেটেও বেশ উড়িয়ে মারা শট খেলছিলেন তামিম। দেশি এবং বিদেশি তারকায় রংপুরের ডাগআউট উপচে পড়লেও সৌম্য সরকারের চোট হয়তো শুরুর দিকে কয়েকটা ম্যাচের জন্য সুযোগ করে দিতে পারে তামিমকে। এরপর একাদশে থাকবেন নাকি বাদ পড়বেন, সেটা নির্ভর করছে তার ব্যাটের ওপর।
আরিফুল ইসলাম
এনসিএল টি-২০-তে জিশানের ১০০ রানের ইনিংসের পর, সিলেট ২০০’র বেশি রান করেও ম্যাচ জিততে পারেনি, সেটা আরিফুল ইসলামের জন্য। ঢাকার হয়ে ওয়ানডাউনে নামা আরিফুল খেলেছিলেন ৪৬ বলে ৯৪ রানের ইনিংস। সিলেট দলের পেসারদের মধ্যে আছেন টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য খালেদ আহমেদ, জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকা রেজাউর রহমান রাজা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞ আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। তাদের বিপক্ষেই রান করেছেন আরিফুল, সেটাও ২০০+ রান তাড়া করার চাপ মাথায় রেখে। এনসিএলে আরিফুলের রান খুব বেশি নয়, ৭ ইনিংসে ২১৩, তবে স্ট্রাইকরেটটা ভালো ১৪২। আরিফুল এবার খেলার সুযোগ পেয়েছেন ফরচুন বরিশালের হয়ে। তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্তদের ভিড়ে আরও অনেকের সঙ্গে থাকা আরিফুল সহজে ইনিংসের গোড়ায় ব্যাটিংয়ের সুযোগ হয়তো পাবেন না। ছোট্ট একটা সুযোগেই যদি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন আরিফুল, তাহলেই বোঝা যাবে ২২ গজের দুনিয়ায় কতটা এগোবেন এই তরুণ।
মাহফুজুর রহমান রাব্বী
এনসিএলে সিলেটের হয়ে ৩৯ বলে ৮২ রানের ইনিংসে সাত ছক্কা মেরেও শেষপর্যন্ত ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচটা জেতাতে পারেননি মাহফুজুর রহমান রাব্বী। দল হেরেছিল এক রানে। তাতে অবশ্য রাব্বীর সামর্থ্যে ভাটা পড়ছে না। বিপিএলে সাকিব আল হাসানের সেঞ্চুরির আনন্দ ম্লান করে গাজী গ্রুপের হয়ে খেলা রাব্বী ১২ ছক্কায় করেছিলেন ৭৯ বলে ১০৭। দুটো উদাহরণ এজন্য দেওয়া, যে রানতাড়ায় চাপের মুখে বড় ইনিংস খেলাটা তার ধাতে আছে। সঙ্গে কার্যকর স্পিনও করতে পারেন বাঁহাতি রাব্বি। ২০২৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা জেতানো দলের অধিনায়ক রাব্বীকে এবার দলে নিয়েছে খুলনা টাইগার্স। একটা ভালো দিক হচ্ছে খুলনা দলে খুব বড় কোনো নাম নেই, তারকার ছায়ায় ঢেকে থাকতে হবে না রাব্বীকে। অলরাউন্ডার হিসেবে একাদশে নিয়মিতই সুযোগ মিলবে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর ওপরই নির্ভর করবে, পরের বিপিএলে তার নামের পাশে কত টাকার অঙ্ক বসবে।
শেষ সেশনে আবার ধস , ৯ রানে নেই ভারতের আরও ৩ উইকেট
বিপিএলে যেমন দাঁড়ালো স্কোয়াডগুলো