বিদেশে থেকেও আন্দোলনে হামলা চালিয়েছেন ব্যবসায়ী!

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করেও ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শাহাদাত হোসেন নামে প্রবাসী এক ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি শারজাহ অবস্থান করছেন।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) নগরের কাজির দেউড়ি এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে তার পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সমিতি শারজাহ’র সাবেক সভাপতি ও সংযুক্ত আবর আমিরাত বিএনপির সভাপতি শরাফত আলী।

লিখিত বক্তব্যে শরাফত আলী বলেন, ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় গত ৯ নভেম্বর নগরের কোতোয়ালী থানায় জাহিদুল হাসান ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩০ নম্বর আসামি করা হয় শাহাদাত হোসেনকে। অথচ তিনি গত ৮ আগস্ট দেশে ফিরে ১৩ আগস্ট শারজায় ফিরে যান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে প্রবাসে থাকা ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন কখনও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হননি। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর থেকে তিনি দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক পরিচয়ে তাকে মামলায় জড়ানোর ভয়, কখনও চাঁদা দাবি করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শারজাহ থেকে ভাচ্যুয়ালি যুক্ত হন শাহাদাত। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি জাপানে থাকাকালে দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে জানতে পারি, পুলিশ আমাকে বাড়িতে খুঁজতে গিয়ে জানিয়েছে, কোতোয়ালী থানায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আমাকে তারা খুঁজতে এসেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মামলার বাদী মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান নামের এক লোক। ৯ নভেম্বর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১২। ওই মামলায় ঘটনার তারিখ লেখা হয় ৪ আগস্ট। অথচ তখন আমি আরব আমিরাতের বাড়িতে। আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।

শাহাদাত আরও বলেন, হঠাৎ খবর পাই, আমার গ্রামে গিয়ে মোদাচ্ছের শাহ নামে এক ব্যক্তি আমার খোঁজ নিচ্ছেন। শারজাহ বাংলাদেশ কমিউনিটি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালানো এই মোদাচ্ছের শাহ মূলত নানা প্রভাব খাটিয়ে কোতোয়ালী থানায় ৯ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলায় আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।
 
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  শারজাহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় প্রবাসী শাহাদাত হোসেনের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ১৮ বছর ধরে জাপানেও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৮ বছর ধরে তিনি শারজাহ ইউজড কার অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সমিতি শারজাহ’র অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ লোকমান, জাহেদুল আলম, মাসুদুর রহমান প্রমুখ। 

এই ব্যাপারে নগরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, সবগুলো মামলারই আমরা তদন্ত করছি। আমাদের মনিটরিং সেলও বিষয়গুলো দেখছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত