বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারতে দুই মুখ্যমন্ত্রীর দুই কথা

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:২১ এএম

পশ্চিমবঙ্গকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ্রবেশের এ ঘটনাকে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের জঘন্য নীলনকশা বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতে আসছে না। তারা তাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওভারটাইম কাজ করছেন বলেও দাবি তার।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রশাসনিক এক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিএসএফ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলায় অনুপ্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে এবং নারীদের ওপর নির্যাতন করছে। তৃণমূল কংগ্রেস সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে না। সীমান্ত আমাদের হাতে নেই। তাই কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ করে, তাহলে আমি তাদের বলব, এই দায়িত্ব বিএসএফের।

তৃণমূলের এই নেত্রী জানান, তিনি রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালককে (ডিজিপি) তদন্ত এবং বিএসএফ অনুপ্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে সীমান্তের এমন সব এলাকা শনাক্ত করার নির্দেশ দেবেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশের কাছে সব ধরনের তথ্য আছে এবং কেন্দ্রের কাছেও রয়েছে। আমি রাজীব কুমার (ডিজিপি) এবং স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছি। আমি এ বিষয়ে কেন্দ্রকে একটি কড়া চিঠি লিখব।

পশ্চিমবঙ্গ এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে শান্তির জন্য নিজের আকাক্সক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু এখানে গুন্ডাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তারা অপরাধ করে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ে। আর এটা করছে বিএসএফ এবং এতে কেন্দ্রের ভূমিকা রয়েছে।’

একই সঙ্গে রাজ্যে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ইন্ধন দেওয়ার চেষ্টা করলে কেন্দ্রকে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পাল্টায় ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেছেন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ।

তিনি বলেন, যারা ধরা পড়ছে তারা বাংলাদেশি এবং তাদের বেশিরভাগেরই ঠিকানাই বাংলা। মমতা ভোটের লোভে এসব করছেন এবং বাংলাকে বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গাদের প্রবেশদ্বারে পরিণত করছেন। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নৃশংসতা চলছে এবং সমগ্র বিশ্ব এটি দেখছে।

অবশ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতে আসছে না। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিচ্ছে এবং তাদের ভারতে চলে আসতে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়।

দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্ব শর্মা বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এটা সত্য যে, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা অতীতে এখানে (ভারতে) চলে এসেছিল, কিন্তু তারা এখন আর আসছে না। তারা বর্তমান পরিস্থিতি পরিপক্কভাবে পরিচালনা করছে এবং তাদের দেশ ছেড়ে চলে আসতে উৎসাহিত করা উচিত নয় আমাদের।

শর্মা দাবি করেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওভারটাইম কাজ করছেন।

গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলার কথিত খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। কথিত এসব ঘটনা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

এ ছাড়া বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত হামলার বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে আসামে একের পর এক বিক্ষোভ হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আসামে বাংলাদেশের হিন্দুদের আশ্রয় দেওয়ার দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দলের মতো বেশ কয়েকটি সংগঠন দাবিও জানিয়েছে।

হিমন্ত শর্মার দাবি, মূলত বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে কর্মরত লোকরা ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পে চাকরির জন্য ভারতে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অস্থিরতার পর সেখানে টেক্সটাইল শিল্প কার্যত ভেঙে পড়ে। তাই ওইসব শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা ভারতে আসতে শুরু করে। আমাদের দেশের অনেক টেক্সটাইল শিল্প মালিক তাদের প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে এবং বাংলাদেশ থেকে সস্তা শ্রমিক আমদানি করতে অর্থ ব্যয় করে। এটি একটি উদ্বেগজনক সমস্যা কারণ আমরা অতীতে এত বেশি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করিনি। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যারা এখানে সংখ্যালঘু। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করছি না, আমরা তাদের দিয়ে আমাদের জেল পূর্ণ করতে চাই না, তাই তাদের ফেরত পাঠাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত