ঢাকায় শীতের আমেজ চললেও দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে যেন বসন্ত। নারী ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি ঘটানোর মূল কারিগর বরেণ্য কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ফিরেছেন বাফুফেতে। তাও আবার একটি নয় দুটি দায়িত্বে।
আগামী এক বছরের জন্য বাফুফের এলিট ফুটবল একাডেমি এবং ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ জতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক প্রধান কোচ ছোটন। বৃহস্পতিবার ছোটনকে বাফুফেতে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে কথা হয় সহসভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর সঙ্গে। মূলত তার উদ্যোগেই অভিমান ভুলে দেড় বছর পর প্রিয় কর্মস্থলে ফিরলেন ছোটন। জাহেদী বলেন, ‘দেশের নারী ফুটবল উন্নয়নে ওনার অনেক বড় অবদান। ওনার অধীনেই বাংলাদেশ প্রথম সাফ জয় করেছিল। এ রকম একজন কোচের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা চাই দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটাতে।’
খুব শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ। প্রতিবারের মতো এবারও এই লিগে অংশ নেবে বাফুফে এলিট একাডেমি। তাই বিলম্ব না করে বছরের শুরু থেকেই ছোটনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিসিএল শেষ হলে এলিট একাডেমি নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাহেদী, ‘কমলাপুরে আমাদের বর্তমান এলিট একাডেমিতে একসঙ্গে অনেক ছেলেদের ট্রেনিং করানো সম্ভব না। তাছাড়া মাঠ নিয়েই নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। তাই আমরা চিন্তা করেছি বিসিএল শেষ হলে একাডেমির কিছু কর্মকা- যশোরের শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে শুরু করব। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল ভাই আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, যশোরের একাডেমির সুযোগ-সুবিধাগুলো এলিট একাডেমিকে ব্যবহারের জন্য দিতে। যশোরে প্রায় দেড়শ জনের আবাসন সুবিধা রয়েছে। তাই আমরা চিন্তা করেছি বিসিএল শেষ হলে নতুন কোচকে যশোর পাঠিয়ে দেওয়া হবে তার দলবলসহ। অর্থাৎ এখন থেকে যশোরেও এলিট একাডেমির কর্মকা- চলবে।’
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে বাফুফের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে ছোটন বলেন, ‘আমি মনে করি আগে যেভাবে কাজ করেছি সামনেও সেভাবে কাজ করব। তরুণদের উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। সেটা করার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলাররা যেন ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি হয় সেটাই আমার লক্ষ্য থাকবে।’
ফুটবলকে বলা হয় কোচের খেলা। মাঠে ১১ ফুটবলার হলো ঘুঁটি আর কোচ হচ্ছেন খেলোয়াড়। ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে মাথা দিয়েই যাকে কাজটা করতে হয়। ২০০৯ সালে নারী ফুটবলের দায়িত্ব নিয়ে সেই কাজটিই নিপুণভাবে করে গেছেন ছোটন। তার কড়া শৃঙ্খলা ও অতুলনীয় আত্মত্যাগের ফসল হিসেবে আন্তর্জাতিক আসরে ট্রফি জয় করতে শেখে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সিনিয়র পর্যন্ত, দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়াঅব্দি বাংলাদেশ আলাদা করে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের। ছোটনের কোচিংয়েই দেশে তৈরি হয় নারী ফুটবলের জাগরণ। ২০২২ সিনিয়র সাফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে মুকুটে সবশেষ পালকটি যোগ করেছিলেন ছোটন।
