এই কদিন আগে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ওঠার দৌড়ে সবার আগে ছিল ভারত। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে চার টেস্টের দুটিতে হেরে পিছিয়ে পড়েছে অনেক। এমন অবস্থায় তারা ফাইনালে উঠতে পারবে কি না, সন্দেহ। নিভু নিভু যে সম্ভাবনা আছে তা জাগিয়ে রাখতে আজ থেকে শুরু সিডনি টেস্টে অন্তত ড্র করতে হবে। আর অস্ট্রেলিয়া যদি জিতে যায়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্ট ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের।
এমন সমীকরণের ম্যাচে দুদলের একাদশে আসছে পরিবর্তন। ভারতের হয়ে খেলতে পারবেন না পেসার আকাশ দীপ। পিঠে ব্যথা থাকায় নিশ্চিতভাবেই তিনি বাদ পড়ছেন একাদশ থেকে। প্রথা ভেঙে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক রোহিত শর্মার বদলে এসেছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। গুঞ্জন শুরু হয় রোহিতের সিডনি টেস্ট না খেলা নিয়ে। পরে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম তাদের রিপোর্টে জানায়, রোহিত থাকছেন না আজ থেকে শুরু হওয়া সিডনি টেস্টে। কোচ অজিত আগারকার ও কোচ গম্ভীরকে বিষয়টা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক না এসে কোচ কেন এ প্রশ্নের উত্তরে গম্ভীর বলেন, ‘এখানে ব্যক্তি কোনো ব্যাপার নয়। ভারতীয় দলের হেডকোচ এসেছেন, সেটাই বোধ হয় যথেষ্ট।’ পরে রোহিত প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন, ‘রোহিতের কোনো সমস্যা নেই। প্রধান কোচ আছে, এতে সব ঠিক থাকার কথা। আমরা উইকেট দেখে (একাদশ) ঠিক করব আগামীকাল (শুক্রবার)।’ বাজে ফর্মে থাকা রোহিত সিডনিতে খেলবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে গম্ভীর বলেন, ‘এই মাত্র বলেছি আমরা উইকেট দেখে একাদশ ঘোষণা করব। উত্তরটা তাই বদলাচ্ছে না।’ চলতি সিরিজে অধিনায়ক রোহিতের পারফরম্যান্স হতাশাজনক, ৩ টেস্টে ৫ ইনিংসে মাত্র ৩১ রান। তার গড় মাত্র ৬.২০। রোহিত না থাকলে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামবেন শুবমান গিল এমনই ধারণা।
এদিকে টানা বাজে পারফরম্যান্সের কারণে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন মিচেল মার্শ। শেষ পাঁচ ইনিংসে মাত্র ২০ রান করায় মার্শ বাদ পড়েছেন। তার জায়গায় সিডনিতে অভিষেক হতে যাচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টারের। ৩১ বছর বয়সী ওয়েবস্টার শেফিল্ড শিল্ডের সর্বশেষ মৌসুমে ৫৮.৬২ গড়ে ৯৩৮ রান করেছেন। তিনিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। পাশাপাশি ২৯.৩০ গড়ে নিয়েছেন ৩০ উইকেট। শেফিল্ড শিল্ড ইতিহাসে ওয়েবস্টারের এক মৌসুমে ৯০০ রান ও ৩০ উইকেটের ‘ডাবল’ ছিল মাত্র একজনেরই। তিনি ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স।
সিডনি টেস্টের আগে প্যাট কামিন্স বলেন, ‘প্রতি টেস্টেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামি, তাই ভিন্ন কিছু ভাবছি না। শেষ তিন টেস্টের ফলে খুশি, যেভাবে ছেলেরা খেলেছে। এবারও লক্ষ্য একই।’
সিডনির পিচ বরাবর উপমহাদেশের মতো হয় কিছুটা। এই পিচে স্পিনাররা সহায়তা পান। সিডনির পিচ থেকে পেসারদের খুব একটা সাহায্য পাওয়ার কথা নয়। তবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সুবিধা পাবেন। ব্যাটাররাও ভালো রান পান। সেট হলে বড় রান পাওয়া যায়। এই মাঠের পিচে বর্তমানে প্রতি উইকেটে গড় রান ৩৪.৮৫, যা গেল তিন বছরে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো মাঠের চেয়ে সেরা।
এই টেস্টে বিশেষ নজর থাকবে স্টিভেন স্মিথের দিকে। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০ হাজার রান পূর্ণ হতে তার দরকার আর মাত্র ৩৮ রান। সিডনি স্মিথের ঘরের মাঠ, তবে এই মাঠে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স আছে মিচেল স্টার্কের। স্টার্ক এখানে ৯ টেস্টে নিয়েছেন ২৪ উইকেট।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারত এর আগে ১৩ টেস্ট খেলে জিতেছে মাত্র একটি। ভারতের জন্য স্বস্তির পরিসংখ্যান হচ্ছে, এই মাঠে খেলা সবশেষ তিনটি টেস্টই ড্র করেছে তারা।
