দুর্জয় তাসকিনে রাজশাহী দুর্বার

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:৩১ এএম

‘প্রথম বলটা, যেটায় লিটন আউট হয়েছিল, সেটা আনপ্লেয়েবল ডেলিভারি ছিল’ সংবাদ সম্মেলনে একগাল হেসে তাসকিন জানালেন, তার নেওয়া সাতটি উইকেটের মধ্যে বন্ধুর উইকেটটাই প্রিয়। নিজের করা প্রথম ওভারেই লাফিয়ে ওঠা দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ফর্মহীন লিটন দাসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করেন তাসকিন। এরপর একে একে আরও ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে নাম লেখান ইতিহাসে। বিপিএলে প্রথম তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার ঘটনা এ নিয়ে তৃতীয়বার ঘটল। তাসকিনের সাত উইকেটের দিনে সাত উইকেটের জয়ে হাসল দুর্বার রাজশাহী।

মিরপুর শেরেবাংলায় গতকাল বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয় এখনো জয়ের দেখা না পাওয়া ঢাকা ক্যাপিটালস। যদিও তাসকিন জানান, তারা টস জিতলে বোলিংই নিতেন। কারণ কুয়াশা আর মেঘে ঢাকা মিরপুরের সিমিং কন্ডিশন। তাসকিন যে সেই কন্ডিশন এত দুর্দান্তভাবে কাজে লাগাবেন কে জানত? ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ব্যাড প্যাচে ভুগতে থাকা লিটনকে দিয়ে শুরু। ফিরতি ওভারে ক্রিজ ছেড়ে শট খেলার চেষ্টায় উইকেট বিলিয়ে দেন তানজিদ তামিম (৯)। ১৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৪৭ বলে ৭৯ রানের জুটিতে ঢাকার হাল ধরেন শাহাদাত হোসেন দিপু আর অস্ট্রেলিয়ান স্টিফেন এস্কিনাজি (৪৬)। ইনিংসের বাকি সময়টা শুধুই তাসকিনময়।

৪১ বলে ৫০ রান করা দিপু তাসকিনকে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন সীমানায়। ওই ওভারে চাতুরাঙ্গা ডি সিলভাকেও ফেরান তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারে আলাউদ্দিন বাবুকে আউট করে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট, যা তাসকিনের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় আর বিপিএল ইতিহাসে ২১তম। এর আগে ২০১৬ বিপিএলে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। কিন্তু তখনো ইতিহাসের অনেক বাকি। পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান মুকিদুল ইসলাম (০)। হ্যাটট্রিক না হলেও পঞ্চম বলে শুভম রানজানেকে (২৪) ফিরিয়ে ইতিহাসে নাম লেখান তাসকিন। ৪ ওভারে ১৯ রানে ৭ উইকেট বিপিএলের ইতিহাসে যা সেরা বোলিং ফিগার।

এতদিন এই রেকর্ড ছিল ২০২০ বিপিএলে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ১৭ রানে ৬ উইকেট নেওয়া মোহাম্মদ আমিরের। শুধু বিপিএল নয়, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড ভাইটালিটি ব্ল্যাস্ট টি-টোয়েন্টিতে লেস্টারশায়ারের হয়ে বার্মিংহাম বিয়ার্সের বিপক্ষে ১৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন ডাচ অফস্পিনার কলিন আকারম্যান। এ ছাড়া ২০২৩ সালে চীনের বিপক্ষে ৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন মালয়েশিয়ান পেসার সিয়াজরুল ইদরুস। তাসকিনের এই আগুনে বোলিংয়ের পরও ৯ উইকেটে ১৭৪ রান তুলতে সক্ষম হয় ঢাকা।

রান তাড়ায় ৭৩ রানে ৩ উইকেট হারানো রাজশাহী ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় আর রায়ান বার্লের ব্যাটে। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়েন ৫৬ বলে ১০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ফিফটি পূরণ করেন দুজনেই; বিজয় ৩৫ বলে আর রায়ান বার্ল ৩১ বলে। দুজনের তাণ্ডবে ১১ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় দুর্বার রাজশাহী। বিজয় ৪৬ বলে ৯ চার ৩ ছক্কায় ৭৩ আর রায়ান বার্ল ৩৩ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। দলের এমন দাপুটে জয়ে পূর্ণতা পায় তাসকিনের রেকর্ড। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল চিত্রনায়ক শাকিব খানের মালিকানাধীন ঢাকা ক্যাপিটালস আর প্রথম জয়ের দেখা পেল উদ্বোধনী ম্যাচ হারা দুর্বার রাজশাহী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত