ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত চলাচল, ডাকসু ও শিক্ষক সমিতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতে মেট্রোরেলের পিলারে শেখ হাসিনার ‘ঘৃণার প্রতীক’ মুছে ফেলার বিষয়টি নিয়েও নিন্দা জানায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্যরা এ দাবি জানান। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত করার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেয় যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জনমনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে। যদিও আমরা জানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকলে অতিরিক্ত মানুষের আগমানে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ব্যবহারিক সমস্যা হয়, যেমন যানজট ও শব্দদূষণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশগত অবনমন হয়। তবু আমাদের মনে রাখা দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের এক ঐতিহাসিক অনপরিসর। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা থাকার কারণে জাতীয় অনেক উদযাপনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রায় সব জাতীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন এখানেই শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘নানান সভা-সেমিনার, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক পরিবেশ হিসেবেও এই এলাকাটুকু পুরো শহরের নিশ্বাস ফেলার জায়গা। আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিপণিকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিস কাছাকাছি হওয়ায় সিটি করপোরেশনের যে রাস্তাগুলো ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে চলে গেছে, সেগুলোতে যান চলাচল ক্যাম্পাসের বাইরের নাগরিকদের অধিকার।’
মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্ক জানায়, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়। প্রশাসন এ দায় স্বীকার করেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে ৩১ ডিসেম্বর চারুকলার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটা অন্যায় পুলিশিং বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল টিমের কর্মপরিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইতিবাচক সমালোচনাকে প্রশাসন গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, অধ্যপক কামরুল হাসান মামুন, অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম, অধ্যাপক কামাল আহমেদ চৌধুরী, তাসনীম সিরাজ মাহবুব, ড. রুশাদ ফরিদী, ড. মোশাহিদা সুলতানা, ড. কাজলী সেহরীন ইসলাম, দীপ্তি দত্ত, মারজিয়া রহমান, এবং ড. সামিনা লুৎফা।
কোন শর্তে জামিন পেলেন আল্লু অর্জুন?
‘আওয়ামী লীগ না থাকলেও দেশে লুটপাট চলছে’
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার আহ্বানে সাড়া দেবে না নয়াদিল্লি