ট্রাম্পের হাতেই ট্রাম্পকার্ড!

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:০৩ এএম

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় মিত্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন এ যুদ্ধে কিয়েভকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে আসছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সে পথে হাঁটবেন না বলে অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। এবার সেই ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধের ইতি টানতে চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ট্রাম্পকে ‘শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্প রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে এবং ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে তিন ঘণ্টার আলাপচারিতায় এ কথা বলেন তিনি। নববর্ষ উপলক্ষে কিয়েভে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ট্রাম্প ও আমি একটি চুক্তিতে আসব এবং... ইউরোপের সঙ্গে একত্রে শক্তিশালী নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেব। এরপর আমরা রুশদের সঙ্গে কথা বলতে পারি।’ জেলেনস্কি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথ উন্মুক্ত করে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন ট্রাম্প।

অতীতে জেলেনস্কিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিক্রমকর্মী বলে উপহাস করেছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক ও অর্থ সহযোগিতার কারণে বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনাও করেন তিনি। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে নিয়ে তার অবস্থান বিপরীত মেরুতে। এমনকি রুশ প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেও কথা বলেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন। যদিও সেটি কীভাবে করবেন, তা বলেননি।

তবে জেলেনস্কি ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, প্রতিবেশী রাশিয়ার আক্রমণকে অন্তত স্থগিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা আছে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের। জেলেনস্কি বলেন, আমার মনে হয়, ট্রাম্পের শুধু ইচ্ছাই নয়, বরং সব ধরনের সম্ভাবনাও আছে। আমি তার ওপর ভরসা রাখতে পারি। আর আমার মনে হয়, আমাদের জনগণ সত্যি তার ওপর ভরসা করে। পুতিনকে চাপ দেওয়ার জন্য তার পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। সেই সঙ্গে এ যুদ্ধ বিষয়ে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের অবস্থান জানার অপেক্ষায় আছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হওয়ার জন্য ইউক্রেন কী চায় এমন প্রশ্নের জবাবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার কথা বলেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল এখনো দখল হয়ে যায়নি, সেগুলোকে ন্যূনতম নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া প্রয়োজন পশ্চিমা দেশগুলোর।  সেই সঙ্গে চাপ জারি রাখার মাধ্যমে রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়া দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত