চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১২ এএম

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন আগামী ২০ জানুয়ারি চার দিনের সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন। সফরের দ্বিতীয় দিন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ফলে এ সফরকে ঘিরে ঢাকা প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সফর উপলক্ষে বাংলাদেশের অস্থান তুলে ধরতে আগামী সপ্তাহে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সভা থেকেই ঢাকার পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়গুলো ঠিক করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জিডিআই সই ও গত সরকারের আমলে আটকে থাকা প্রকল্পে মনোযোগ চীনের আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের স্থানান্তরে আগ্রহী ঢাকা।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত ডিসেম্বরের শুরুতে তৌহিদ হোসেনকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একটি চিঠি পাঠান। এরপর চীন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তৌহিদ হোসেন গত মাসের শেষ সপ্তাহে ওয়াং ইকে চিঠির জবাব দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার ফাঁকে তৌহিদ হোসেন চীনের গুরুত্বপূর্ণ দুই শহরে সে দেশের কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া তিনি বেইজিং ও সাংহাইয়ে দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি বেইজিংয়ে হবে, তাই ঢাকা চায় আলোচ্যসূচির প্রস্তাব চীনের কাছ থেকে আসবে। চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবের বিষয়ে বাংলাদেশ মতামত দেওয়ার পর তা চূড়ান্ত হবে। তবে ব্যবসা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে কতটা জোরালো করা যায়, তা আসন্ন বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিগত সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প এগোতে পারেনি, সেগুলো সামনে আনতে পারে চীন।

গুরুত্ব পাবে জিডিআই : কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীন তাদের বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে (জিডিআই) বাংলাদেশকে যুক্ত করার জন্য সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে জোর দেবে। বেইজিং যে আসন্ন সফরে জিডিআই ও ঝুলে থাকা প্রকল্পে জোর দেবে, তা সফরের প্রস্তুতিমূলক আলোচনায় চীনের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ভূরাজনীতির বিষয়ে আগ্রহ থাকবে বেইজিংয়ের : চলতি বছর বাংলাদেশ ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাঁচ দশক উদযাপন করতে যাচ্ছে, ফলে এই বিষয়েও নজর থাকবে চীনের। স্বাভাবিকভাবেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এ বছর নানা স্তরে সফর বিনিময়সহ বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে। তারা মনে করেন, দ্বিপক্ষীয় পরিসরে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য আলোচনার কথা থাকলেও ভূরাজনীতিতে বিশেষ কৌতূহল থাকবে চীনের। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখনকার প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ওপর চীন জোর দিচ্ছে।

তাদের মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিকট প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চরম টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর এই সুযোগটি নিতে চাইবে চীন। এ পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কীভাবে আরও কাছে আসা যায়, সে বিষয়ে চীনের মনোযোগ আছে। কারণ এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় নানা স্তরে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে চীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত