পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার অটোয়ায় নিজ বাসভবনের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ২০১৫ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ট্রুডো বলেন, ‘প্রতি সকালে যখন আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জেগেছি, কানাডিয়ানদের ভিন্ন মত মেনে নেওয়ার সক্ষমতা, উদারতা ও সংকল্প আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।’
ট্রুডো বলেন, ‘দল যখন পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় নেতা উভয় পদ থেকেই সরে দাঁড়াব।’ তিনি জানান, লিবারেল দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া হবে ‘শক্তিশালী এবং দেশ জুড়ে প্রতিযোগিতামূলক’।
তবে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি কতদিন থাকবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ট্রুডোর এ ঘোষণার ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মাসে ক্ষমতা নেওয়ার সময়ও কানাডার নেতৃত্বে তিনিই থাকবেন। ট্রাম্পের সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধের জবাব দেওয়া এবং নতুন প্রশাসনের প্রতি কানাডার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে তার ওপর।
ট্রুডো নিশ্চিত করেছেন, তিনি কানাডার গভর্নর জেনারেলের কাছ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সংসদের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুমতি পেয়েছেন। এতে লিবারেল দলের জন্য নতুন নেতা নির্বাচন করার সময় পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিরোধীদের অনাস্থা ভোট আনার সুযোগও সীমিত হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রুডোর জনপ্রিয়তা অনেক কমে আসে। তার সরকার কয়েক দফা অনাস্থা ভোট কোনোমতে এড়াতে সক্ষম হলেও সমালোচকরা তাকে একাধিকবার পদ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের অক্টোবরের নির্বাচন পর্যন্ত দলের নেতৃত্বে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত চাপের মুখে পড়েছেন তিনি, যা তাকে আরও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণ করেই কানাডার পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
ট্রাম্পের এ হুমকির বিরুদ্ধে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, সে বিষয়ে মতভেদের জেরে ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ট্রুডোর মন্ত্রিসভায় প্রথম ‘প্রকাশ্য’ বিদ্রোহের ঘটনা।
সে সময় একটি কড়া ভাষার পদত্যাগপত্রে ফ্রিল্যান্ড অভিযোগ করেন, ট্রুডো কানাডার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পরিবর্তে ভোটারদের খুশি করার জন্য রাজনৈতিক কৌশলে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।
ফ্রিল্যান্ডকে লিবারেল দলের নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর এবং ব্যাংক অব কানাডার সাবেক প্রধান মার্ক কার্নির নামও।
