দোয়া ইবাদতের মূল। দোয়া মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। দোয়ার মাধ্যমেই ভাগ্য পরিবর্তন হয়। দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনে দোয়ার কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু কাজ আছে, যা করলে দোয়া কবুল হয় না। তাই তা পরিহার করা কাম্য।
হারাম পানাহার ও পরিধেয় : পচা খাবার যেমন শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তেমনি অবৈধ পথে উপার্জিত খাবারও আত্মা ও প্রাণের ক্ষতিসাধন করে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করে, হে প্রভু! হে প্রভু! কিন্তু তার খাদ্য হারাম, তার পোশাক হারাম, তার শরীর গঠিত হয়েছে হারাম দিয়ে। কীভাবে তার দোয়া কবুল করা হবে? (সহিহ মুসলিম)
সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ বর্জন : প্রতিটি মুসলিমের ওপর আল্লাহ ও তার রাসুল প্রদত্ত দায়িত্ব হলো, সমাজে সে সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে। যদি এ দায়িত্ব পালন করা না হয়, তবে দোয়া কবুল করা হবে না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজে বাধা দেবে। অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের প্রতি শাস্তি নাজিল করবেন। তোমরা দোয়া করবে, কিন্তু তিনি তা কবুল করবেন না। (তিরমিজি)
দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া করা : হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল বলেছেন, বান্দার দোয়া সর্বদা কবুল করা হয়, যদি সে দোয়া পাপ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কের ছিন্ন করার কথা না বলে এবং তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! তাড়াহুড়া বলতে কী বোঝায়? তিনি বললেন, দোয়াতে তাড়াহুড়া হলো, প্রার্থনাকারী বলে আমি তো দোয়া করলাম, কিন্তু কবুল হতে দেখলাম না। ফলে সে নিরাশ ও ক্লান্ত হয়ে দোয়া করা ছেড়ে দেয়। (সহিহ মুসলিম)
অন্তরের উদাসীনতা : মুখে দোয়া করার সময় যদি দোয়ার প্রতি অন্তর উদাসীন থাকে তাহলে দোয়া কবুল হয় না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রার্থনা কবুল হবে এ দৃঢ় বিশ্বাস রেখে তোমরা দোয়া করবে। জেনে রাখো, আল্লাহ কোনো উদাসীন অন্তরের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি)
