২০২৩ সালে ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজে মুশফিকুর রহমানের অদ্ভুতুড়ে আউট হওয়ার ঘটনা ভোলার কথা না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হয়ে গোটা দেশকে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। কাল সিলেটে ফিরে এসেছে সেই স্মৃতি। রান তাড়ায় ১৯তম ওভারে এই আউটের শিকার হয়েছেন রংপুরের শেখ মেহেদি হাসান। দেশের ক্রিকেটে এমন অদ্ভুতুড়ে আউটের আছে আরও কিছু উদাহরণ।
তবে যে অপরাধে মেহেদি আউট হয়েছেন, ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার এ কাণ্ড ঘটান অন্যপ্রান্তেথাকা রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। জাহানদাদ খানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন মেহেদি। ক্রিজের পাশেই থাকায় জাহানদাদ সেটি ধরতে যান। আর রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন সোহান। শেষমেশ সোহানই ক্যাচ নেওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান। সিদ্ধান্তের ভার পরে তৃতীয় আম্পায়ারের কাঁধে। রিপ্লেতে দোষী সাব্যস্ত হন সোহান। আর তার বলি হতে হয় মেহেদিকে। এমসিসি আইনের ৩৭.৩ ধারায় ক্যাচের ক্ষেত্রে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ সম্পর্কে বলা আছে, ‘নো বল না হলে যে ব্যাটসম্যানই ক্যাচে বাধা দিক না কেন, আউট হবেন স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান।’ ওই নিয়মানুসারে কপাল পোড়ে মেহেদির। সংবাদ সম্মেলনে সোহান অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করা হয়নি। আমিও রান নেওয়ার জন্য যাচ্ছিলাম, আমি চাচ্ছিলাম স্ট্রাইক নিতে।’
মুশফিক অবশ্য এভাবে আউট হননি। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে কাইল জেমিসনের বলটি ডিফেন্স করার পর অফস্টাম্পের অনেক দূরে থাকা বলটি কী বুঝে হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিক। কিউই ফিল্ডাররা আবেদন করলে ক্রিকেটীয় নিয়মে আউট না দিয়ে পারেননি আম্পায়ার। তাতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এভাবে আউট হওয়ার অদ্ভুত কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। ঘটনাটি ২০১৭ সালের আগে ঘটলে মুশফিক হতেন ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউট।
২০২৪’র অক্টোবরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একই ভাবে আউট হন মার্শাল আইয়ুব। ওই মৌসুমের জাতীয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচে পুরোদস্তুর ফিল্ডারকে বাধা দিয়ে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হন সেঞ্চুরি হাঁকানো মার্শাল। ১২৭ রানের সময় কামরুল ইসলাম রাব্বির করা বল কাভারে ঠেলে দিয়ে রান নিতে গিয়েছিলেন। ফিল্ডার বল ধরে ছুড়ে মারেন নন-স্ট্রাইকে। দৌড়াতে থাকা মার্শালের গায়ে লাগে বলটি। আম্পায়ারদের মনে হয়েছিল ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত। তাই আউট।
অদ্ভুতুরে আউট হওয়ার আরেকটি ঘটনার সাক্ষী শেখ মেহেদি। সেবার অবশ্য তিনি ছিলেন বোলার। এনসিএলের ২০২৪-এ সিলেট-খুলনা ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে ১১৫ রানে ব্যাট করছিলেন গালিব। মেহেদির হাত ফসকে যায় একটি বল। ক্রিকেটে যাকে বলা হয় ‘মুন বল’। সেই বল হাঁকাতে গিয়ে ব্যর্থ গালিব। তুলে দেন ক্যাচ।
