সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের কথা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫২ এএম

গত ১ জানুয়ারি দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘সনদ স্থাপত্যবিদের কাজ নগর পরিকল্পনার’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্থপতি ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (অ. দা.) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

শুরুতেই তিনি সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেন। সিরাজুল ইসলামের দাবি, তিনি ১৯৯২ সালে স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৯৭ সালে ডিসেম্বরে স্থপতি হিসেবে বিধি মোতাবেক যোগদান করেন।

তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নগর পরিকল্পনায় সাতটি আন্তর্জাতিক ট্রেনিংয়ের সার্টিফিকেট রয়েছে তার। তিনি সাতবার পদোন্নতির আবেদন করেন, কিন্তু পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাধ্যমে ডিএসসিসির অন্তত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি কাল্পনিক। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, পিডি ছিলেন ড. তারিক বিন ইউসুফ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকা সিটি নেইবারহড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট-ডিসিএনইউপি প্রকল্পটির বিভিন্ন প্যাকেজের নকশা প্রণয়ন ও কিছু প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করার পর গত বছর ৩ মার্চ নতুন অন্য একজনকে পিডি নিয়োগ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১০ বছর মেয়াদি নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্প-কেইস প্রকল্পের শেষ তিন মাসের জন্য প্রকল্প শেষ করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাস্টারপ্ল্যানের টিম লিডার ছিলেন অন্য একজন।’

তার দাবি, ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও ট্রাফিক সিগন্যালের কাজ ২০১৫-১৬ সালে কেইস প্রকল্পের আগের দুই পিডি করেছিল। দক্ষিণ সিটি এলাকার সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ কারিগরি কমিটির সুপারিশক্রমে করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যান্য যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত ও আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবেদনটি সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি। প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করা হলেও সিরাজুল ইসলামের পক্ষে কোনো প্রমাণ সংযুক্ত করেননি। ডিএসসিসি থেকে সংগ্রহ করা সিরাজুল ইসলামের শিক্ষা সনদে ‘ডিপ্লোমা’ লেখা রয়েছে। তবে সেটি বিএসসি সমমানের কি না, তা প্রতিবাদলিপিতে স্পষ্ট নয়।

নকল সনদে পল্টন থানা ছাত্রলীগের এক নেতাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়সহ অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে সমালোচনা শুরু হলে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয় ডিএসসিসি। সিরাজুল ইসলাম তখন ডিএসসিসি অংশের প্রধান (ফোকাল পয়েন্ট) এবং প্রকল্পের উপপরিচালক ছিলেন। কাউকে হেয় করা উদ্দেশ্য আমাদের নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত