মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচারের জন্য কানাডাকে দায়ী করে এই হুমকি দেন ট্রাম্প। এছাড়া কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হিসেবে সংযুক্ত করারও কথা বলেন তিনি।
গতসপ্তাহে পদত্যাগ করা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গ্রেট স্টেট অফ কানাডার গভর্নর' বলেও ঠাট্টা করেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে যথোপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা।
ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, কিছু বিশ্লেষক ট্রাম্পের এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে না নিলেও কানাডার রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদেরা এর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প যেহেতু চীন, মেক্সিকো, ব্রিকস ও ন্যাটোকে লক্ষ্য করে বক্তব্য দিলেও ক্যানাডাকে নিয়ে খুব বেশি কিছু বলেননি। তাই এখন তার এমন বক্তব্যে অনেকে অবাক হয়েছেন।
যেমন ব্যাংক অব মনট্রিয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডগলাস পোর্টার ডিডাব্লিউকে বলেন, ‘এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল৷'
ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও কানাডাকে শত্রু হিসেবে দেখার কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের এসব বক্তব্য আমার কাছে একটু বেশি বিরক্তিকর মনে হচ্ছে।
এদিকে গত বছরের প্রথম ১১ মাসে ক্যানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার কানাডা। মেক্সিকো, ইউরোপ ও চীনের চেয়েও সেখানে বেশি রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্র৷ রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে ট্রাক, ভ্যান, গাড়ি, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও জীবাশ্ম জ্বালানি।
একইভাবে কানাডার রপ্তানি পণ্যেরও সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। তিন-চতুর্থাংশের বেশি রপ্তানি পণ্যই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। তুলনার জন্য বলা যায়, জার্মানির মোট রপ্তানি পণ্যের ৫৩ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে৷
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া কানাডীয় পণ্যের এক-চতুর্থাংশ হলো অপরিশোধিত তেল৷ গত জুলাইতে এর পরিমাণ দিনে ৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন৷ যুক্তরাষ্ট্র এসব তেল পরিশোধিত করে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েল তৈরি করে৷ এসব জ্বালানি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কিছু অংশ কানাডায়ও রপ্তানি করা হয়৷
কানাডার গণমাধ্যম বিএনএন ব্লুমবার্গ অর্থনীতিবিদদের উদ্ধৃত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে কানাডার জিডিপি দুই থেকে চার শতাংশ কমতে পারে, এবং অর্থনীতিতে মন্দা তৈরি হতে পারে৷
যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন পণ্যে শুল্ক আরোপ করা যায় তার তালিকা তৈরি করছে কানাডা। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম আমলেও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ শুরু হয়েছিল৷ এক বছর পর তার সমাধান হয়েছিল৷
কানাডার দৈনিক গ্লোবাল অ্যান্ড মেইল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, সিরামিক্স, কাচ, ফুল ও ফ্লরিডা কমলা জুসসহ আরও কিছু পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে কানাডা।
ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ