চীনের জনসংখ্যা কমেই চলেছে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৫৪ এএম

২০২৪ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো কমেছে চীনের জনসংখ্যা। ক্রমবর্ধমান জনমিতি সংকট নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি দেশটিকে। গতকাল শুক্রবার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, ২০২৪ সালে দেশটির জনসংখ্যা ১৩ লাখ ৯০ হাজার কমে ১৪০ কোটি ৮০ লাখে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুর হার জন্মহারকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ হ্রাস অব্যাহত রয়েছে।

চীনের জনসংখ্যা ১৯৮০-এর দশক থেকেই ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মৃত্যুহার জন্মহারকে ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ১৯৬১ সালে, গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড কর্মসূচির কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে দুই কোটি মানুষের মৃত্যুর সময় এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। জন্মহার বাড়াতে বেইজিংয়ের বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি এ প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি।

জন্মহার বাড়াতে গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং। একদিকে অবিবাহিত নারীদের বিয়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিয়েবিচ্ছেদ ও গর্ভপাতের প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু লালনপালনের ব্যয় মেটাতে দম্পতিদের ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে কভিড মহামারীর অবসানের পর বিয়ের হার বছরে ১২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যার ফলে ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে কিছু এলাকায় জন্মহার সামান্য বাড়িয়েছিল।

২০২৪ সালটি চীনে ড্রাগনের বছর ছিল, যা ঐতিহ্যগতভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জন্মহার সামান্য বৃদ্ধির জন্য পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু এলাকায় জন্মহার বাড়লেও সামষ্টিক হার নিম্নগামী। ২০১৬ সালে দেশটিতে ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিল করে চীন। এই নীতিটি দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ছিল, তবে এর ফলে পুরুষ সন্তানদের প্রতি সাংস্কৃতিক পক্ষপাতের কারণে জনসংখ্যায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়। ২০২১ সালে তিনটি সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও, নগর জীবনের উচ্চব্যয় এবং ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নতুন প্রজন্মকে সন্তান ধারণে নিরুৎসাহিত করছে। এ সংকট মোকাবিলায় চীন অবসরগ্রহণের বাধ্যতামূলক বয়স বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পুরুষদের জন্য বয়স ৬০ থেকে ৬৩ এবং নারীদের জন্য বিভিন্ন পেশায় ৫৫ থেকে ৫৮ বছর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। চীনের পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানেও একই কারণে জনসংখ্যা হ্রাসের সম্মুখীন হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত