নদী পারাপারে সাত গ্রামের মানুষের ভরসা সাঁকো

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

ভোটের আগে প্রার্থীদের আশ্বাসের ছড়াছড়ি থাকলেও ভোটের পর তাদেরদের দেখা মিলে না। এভাবেই ভোট আসে, ভোট যায় কিন্তু মুন্সীগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের রজত রেখা নদীর ওপর আর ব্রিজ হয় না। একটি পাকা ব্রিজের অভাবে ওই ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষের যাতায়াত করতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকোতে। গ্রামগুলোর অন্তত ২০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে দুটি বাঁশের সাঁকো একমাত্র ভরসা।

রজত রেখা নদীর ওপর নির্মিত সাঁকো দুটির এক প্রান্তে রয়েছে জেলা সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঢালীকান্দি গ্রাম ও অন্য প্রান্তে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরজাবাদ গ্রাম। মাঝখানে রজত রেখা নদীর ওপর হাফ কিলোমিটারের ব্যবধানে ২০০ ফুটের দীর্ঘ দুটি সাঁকো নির্মিত হয়েছে স্থানীয়দের অর্থায়নে। প্রতি বছর স্থানীয়দের উদ্যোগেই করা হয়ে থাকে সাঁকোর সংস্কারকাজ। এই সাঁকো দুটি দিয়েই বছরের পর বছর বাসিন্দারা যাতায়াত করে আসছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘ আর উচু দুটি সাঁকোতে রজত রেখা নদী পারাপার হয়ে থাকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের ঢালীকান্দি, নোয়াদ্দা, শ্যামারচর, মুন্সীকান্দি, রাজারচর, বেহেরপাড়া ও কংশপুরা গ্রামের বাসিন্দারা। তারা সহজ পথ হিসেবে পাশর্^বর্তী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সেরজাবাদ ও পুরা বাজারে যেতে এ সাঁকোর ব্যবহার করে থাকেন। এ ছাড়া পাশর্^বর্তী উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও যাওয়া-আসা করেন এ সাঁকো দিয়ে।

ঢালীকান্দি গ্রামের ৭০ বছর বয়সী নারী ভানু বেগম আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই সাঁকোতে পারাপার হইয়া আইতাছি। আমাগো বারো মাসের ভরসা ওই সাঁকো। ভোট আসলে নির্বাচনে দাঁড়াইয়া আমাগো ভোট চায়। জীবনে অনেক বার ভোটও দিলাম। একটা সরকার তো ভোট নিয়া পালাইছে। পাকা ব্রিজ তো কেউ কইর‌্যা দিয়া গেল না।’ নোয়াদ্দা গ্রামের আবদুর রব বলেন, ‘নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সী মানুষের। সাঁকো দুটি খালের পানি থেকে কমপক্ষে ২৫ ফুট উঁচুতে। এক সঙ্গে চার-পাঁচজন উঠলেই দুলতে শুরু করে। সাঁতার না জানা শিশুরাও বাধ্য হয়ে ওই সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছে।’

ঢালীকান্দি গ্রামের তারা মিয়া বলেন, ‘গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় আমাগো। বাঁশের সাঁকো পারাপার হতে তখন রোগীকে কাঁধে করে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।’এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর বাঁশের সাঁকো সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শফিকুল আহসান। তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত