৩৫১টি দল, ৬৫৭টি ম্যাচ, একটি শিরোপা। শুরু হয়ে গেল দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট ২০২৪-২৫। প্রাইম ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় দশমবারের মতো হচ্ছে এ আয়োজন। এবারের আসরে আগের চেয়ে বেশি তৎপরতা ও কার্যক্রম থাকবে এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্কুল ক্রিকেটকে বলা হয় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে প্রথম পাঠ। মুম্বাইয়ের শারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে হ্যারিস শিল্ডে রান করেই প্রথম নজর কাড়েন শচীন টেন্ডুলকার। মহেন্দ্র সিং ধোনি, কুমার সাঙ্গাকারা থেকে শুরু করে জস বাটলার, অনেক বড় বড় ক্রিকেটারই প্রথম প্রতিভার আলো দেখিয়েছেন স্কুল ক্রিকেটে। বাংলাদেশেও নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট থেকে উঠে এসেছেন অনেক ক্রিকেটার। গত এক দশকে প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের আয়োজন থেকেও বাংলাদেশ পেয়েছে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে, যারা জাতীয় পর্যায় বা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার সোমবার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হয়ে যাওয়া সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্কুল ক্রিকেটের সেই অবদানের কথাই, ‘স্কুল ক্রিকেট থেকে আমরা তাওহীদ হৃদয়, রাকিবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন দীপু, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রাকিবুল হাসানসহ অনেককে পেয়েছি, যারা জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এ ছাড়া অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপজয়ী দুই অধিনায়ক মাহফিজুর রহমান রাব্বি ও আজিজুল হাকিম তামিম, তারা দুজনেই প্রাইম ব্যাংকের স্কুল ক্রিকেটের বর্ষসেরা দলে ছিল, বৃত্তিপ্রাপ্ত।’
আগামীর ক্রিকেট তারকাদের খুঁজে বের করতে জেলা কোচদের সঙ্গে নিজ নিজ জেলার জাতীয় বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদেরও স্কাউটিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়েছেন গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা, ‘আমরা স্কুলের গেম টিচারদের জন্য ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম রেখেছি। জেলা কোচ যারা আছেন বিসিবির, তারা স্কাউটিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, এ ছাড়া নিজ নিজ জেলার জাতীয় দল বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের স্কাউটিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা এ ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।’
এবারের স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে চলমান তারুণ্যের উৎসবের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা দেবে। সংবাদ সম্মেলনে প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজিম এ চৌধুরি বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট আমাদের জন্য বড় আবেগের জায়গা। ১০ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে আছে প্রাইম ব্যাংক। এর একটা প্রভাব আমরা দেখেছি যে, স্কুল ক্রিকেট খেলার ১০-১২ জন ক্রিকেটার আছেন যারা সর্বোচ্চ জায়গা পৌঁছেছেন। দেশের ক্রিকেটের সার্বিক যে এগিয়ে চলা এবং তৃণমূল পর্যায়ের যে অবদান, তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে প্রাইম ব্যাংক গর্বিত ও আনন্দিত।’
বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহা ও গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার কাওসারের কথায় উঠে এসেছে টুর্নামেন্ট আয়োজনে আরও আন্তরিকতার প্রসঙ্গ। বিসিবির পক্ষ থেকে আরও ভালো উইকেট দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে সেরা খেলোয়াড়দের বাছাই করে তাদের নিয়ে পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন ক্যাম্প। যাতে করে ভবিষ্যতে এই খুদে ক্রিকেটারদের ভেতর থেকেই বাংলাদেশ পেতে পারে আগামীর ক্রিকেট তারকা।
সোমবার শুরু হয়েছে জেলা পর্যায়ের ম্যাচ। ৩৫১টি দল ৫৮৫টি ম্যাচ খেলবে এ পর্যায়ে। এরপর ৬৪ জেলার চ্যাম্পিয়নরা বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নীত দলগুলো ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলবে ৫৭টি ম্যাচ। ১০ এপ্রিল শুরু হবে ১৬ দল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। রাজশাহী জেলায় সর্বোচ্চ ১২টি স্কুল অংশ নিচ্ছে এই প্রতিযোগিতায়, চট্টগ্রাম জেলা থেকে অংশ নিচ্ছে ১১টি স্কুল। এর বাইরে বেশিরভাগ জেলা থেকেই অংশ নিচ্ছে চারটি করে স্কুল।
