মিয়ানমারের জান্তা-বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:১৬ এএম

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার ফলে কয়েক বছর ধরে দেশটির জান্তাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) যুদ্ধবিরতির একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফলে চীন ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী সীমান্তের কাছে দুই পক্ষের সংঘাত বন্ধ হয়েছে। পক্ষ দুটি চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিংয়ে বৈঠকে বসে আলোচনা করেছিলেন। সেখানে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য বেইজিংকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

মাও বলেন, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করা এবং চীন-মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখা সবপক্ষ এবং এ অঞ্চলের সবগুলো দেশের এক সাধারণ ও অভিন্ন স্বার্থ। চীন মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে যাবে এবং সক্রিয়ভাবে শান্তি ও সংলাপের প্রচার চালিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মাও।

এর আগেও চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোয় যুদ্ধবিরতির চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস পরই ওই যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে। মিয়ানমারের যে কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, এমএনডিএএ তাদের মধ্যে অন্যতম। গোষ্ঠীটি থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অংশ। এমএনডিএএ ছাড়া জোটটির বাকি দুই সদস্য হলো আরাকান আর্মি (এএ) এবং তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)। এই জোট ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মিয়ানমারের শাসক জান্তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে চীনে সীমান্তের কাছে বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটিতে গভীর সংকট চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিñিদ্র রাখতে চীন এই মধ্যস্থতা করেছে। মিয়ানমারের সঙ্গে ২০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে চীনের। জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অগ্রগতিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলো থেকে পিছু হটেছে সামরিক বাহিনী। এখন ক্রমেই দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা চীনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের এই বিশৃঙ্খলা চীনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কাও করছে বেইজিং।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত