কোন রূপে ফিরছেন ট্রাম্প

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪৪ এএম

দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সবশেষ নির্বাচনে জয়ী রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জয়ের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নানা নীতিতে পরিবর্তন আসার ধারণা করা হচ্ছিল। শপথ গ্রহণের পর সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ব্যবসায়ী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসা ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন তিনি। সেসব আদেশ যেমন বৈশ্বিকভাবে ব্যাপক প্রভাবে ফেলবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়েও নানা পটপরিববর্তন করবে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম দিনই ট্রাম্প বাইডেন প্রশাসনের ৭৮টি নিয়মবিধি বাতিল করেছেন। আবার নিজের জারি করা এসব নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়ন করতে নানা চ্যালেঞ্জ উতরাতে হবে ট্রাম্পকে।

নির্বাসন : ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ পদ্ধতি বন্ধ করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। যা অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে তাদের শুনানি পর্যন্ত থাকার অনুমতি দিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন অভিযান শুরুর কথা ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন। ফেডারেল অভিবাসন কর্র্তৃপক্ষ চার্চ ও স্কুলে অভিযান চালানো থেকে বিরত থাকে এমন দীর্ঘদিনের নীতিও বাতিল করবেন বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তার এসব কর্মসূচি নানা সমস্যার মুখোমুখি হবে। এতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হবে এবং তা আইনি চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি হতে পারে।

ক্যাপিটল হিল দাঙ্গাবাজদের ক্ষমা : ২০২০ সালের নির্বাচনে ক্যাপিটল হিলে কট্টর সমর্থকদের হামলার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই শপথ গ্রহণের পরপর ওই দাঙ্গাবাজদের ক্ষমা করলেন ট্রাম্প। এই মামলায় দণ্ডিত প্রায় দেড় হাজার সমর্থককে কারামুক্ত করার জন্য এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।

কট্টর ডান গোষ্ঠী সদস্যদের সাজা কমানো : ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ওথ কিপারস এবং প্রাউড বয়েজ-এর মতো কট্টর-ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের সাজা কমানোর আদেশেও সই করেছেন। এর ফলে ২২ বছরের জেল হওয়া প্রাউড বয়েজ গোষ্ঠীর সাবেক প্রধান হেনরি এনরিক ট্যারিও মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

নতুন সংস্থা ডজ এবং ইলন মাস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিশিয়েন্সি নামে একটি নতুন পরামর্শদাতা সংস্থা গঠনের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এই সংস্থা সরকারি খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক এই সংস্থার নেতৃত্বে থাকবেন।

ফেডারেল নিয়োগে স্থগিতাদেশ : নতুন ফেডারেল নিয়োগ স্থগিত করতে একটি আদেশে সই করেছেন ট্রাম্প। তবে দেশটির সামরিক বাহিনীসহ আরও কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য নয়Ñ ততদিন পর্যন্ত যতদিন না ট্রাম্প প্রশাসন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছে।

বাসা থেকে দাপ্তরিক কাজের সুবিধা বাতিল : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দপ্তরে উপস্থিত থেকে কাজ করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে বিশেষ পরিস্থিতি কিংবা প্রয়োজনে এখন আর বাসা থেকে দাপ্তরিক কাজ করার সুবিধা পাবেন না সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারি কর্মীদের পূর্ণ সময় দপ্তরে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি সেন্সরশিপ বন্ধে পদক্ষেপ : ট্রাম্প একটি আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সরকারি সেন্সরশিপ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ আদেশ অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেলকে আগের প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ : রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন বন্ধে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ট্রাম্প। এর আওতায় বাইডেন প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক উদ্দেশে সেগুলো ব্যবহারের ঘটনা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে অসংগতি থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে বলা হয়েছে এই আদেশে।

অর্থনীতি মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা : ট্রাম্প একটি আদেশে প্রতিটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনযাত্রার খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী- বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানি খরচ কমানোর বিষয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে খরচ কমানোর জন্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেবে, তা এতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

বৈচিত্র্য ও লিঙ্গ : ট্রাম্প এক আদেশে ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল দুটো লিঙ্গকেই স্বীকৃতি দেবে। আর তা হচ্ছে নারী ও পুরুষ। একে পরিবর্তন করা যাবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত