দায়িত্ব ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে রেকর্ডসংখ্যক ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে আগাম ক্ষমা ঘোষণা করে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাকে অপদস্থ করার জন্য তার প্রিয়জনরা রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেই সোমবার ট্রাম্পের শপথের আগে এই পদক্ষেপ নেন বাইডেন। এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমার পরিবার জঘন্য রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই অধ্যায় অতিবাহিত হয়ে গেছে, এমনটা মনে করার কোনো লক্ষণ আমি এখনো দেখছি না। বাইডেন আরও বলেন, এমনটা মনে করার সুযোগ নেই যে আগাম ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিরা কোনো অপরাধে যুক্ত থাকার দায় পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিলেন।
বিদায়ী ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট তার মেয়াদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে গেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় পরিবার-মিত্রদের রক্ষাকবচ হিসেবে আগাম ক্ষমা ঘোষণা করেন। দুপুরের কিছু আগে ক্ষমার ঘোষণা করা হয়। এরপর ট্রাম্পের অভিষেকে যোগ দিতে ক্যাপিটল ভবনে যান বাইডেন। ক্ষমাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন বাইডেনের ভাই জেমস ও তার স্ত্রী সারা। তার বোন ভ্যালেরি ও তার স্বামী জন ওয়েন্স এবং তার আরেক ভাই ফ্রান্সিস। এছাড়া রয়েছেন ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার তদন্ত কাজে যুক্ত প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ড. অ্যান্থনি ফাউচি ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মার্ক মিল্লে। এর আগে ছেলে হান্টার বাইডেনকেও নিজের ক্ষমতাবলে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
ক্ষমার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের কেউ কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না হলেও, ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রোষের শঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, বিচার বিভাগের সহায়তায় তার রাজনৈতিক শত্রুদের শায়েস্তা করতে পিছপা হবেন না তিনি।
পরিবারের সদস্যদের ক্ষমা করার দিক দিয়ে বাইডেন প্রথম প্রেসিডেন্ট না হলেও, অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমা ঘোষণার ঘটনা বিরল। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ক্ষমতা ব্যবহার করে মাদক সেবনের দায়ে অভিযুক্ত তার ভাই রজার্সকে ক্ষমা করে দেন।
