বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাতাহাতি আহত ৭

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩১ এএম

রাজধানীর বাংলা মোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও দুই পক্ষের হাতাহাতি হয়েছে। এতে অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলা মোটর রূপায়ণ টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতরা হলেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমরান সরকার (২১), তেজগাঁও কলেজের জান্নাতুল মিম (২২), আবরার (২২), আলামিন (২৫), আফসার উদ্দিন (২৫), কবি নজরুল কলেজের আসিফ (২৪) ও ডেমরা বড় মাদ্রাসার ছাত্র মাসুদ (২৪)।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক ফারুক বলেন, ‘বাংলা মোটর থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে এসেছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।’

আলামিন নামে আহত এক শিক্ষার্থী ঢামেক হাসপাতাল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার যাত্রাবাড়ী জোনের সমন্বয়কদের মতবিনিময় সভা ছিল। সভা শেষে বের হওয়ার সময় একজনকে মারধর করা হয়। ওই বিষয়ে আজকে (মঙ্গলবার) আলোচনা ছিল। এ সময় আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

জানা গেছে, ঘটনার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রিফাত রশিদ ও নাঈমুর রশিদসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তবে এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে মারধরে সাতজন আহতের ঘটনায় দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের সমন্বয়করা। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) সমন্বয়ক তানজিব মো. সোহরাব রেজা বলেন, সোমবার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কিছু নেতাকর্মী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন। সেই হামলারই বিচার চাইতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্র আন্দোলনের বাংলা মোটরে অবস্থিত রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে প্রধান কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মূলত আশিকুজ্জামান হৃদয় নামের একজনের নেতৃত্বে তাদের ওপর আবার হামলা করা হয়। তাদের এক নারী শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

তিনি আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেব। বাংলা মোটরের যেই ভবনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, সেই একই ভবনে জাতীয় নাগরিক কমিটিরও কার্যালয়।’

এর আগে ১০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে রূপায়ণ টাওয়ারে একটি থানা কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হন। ওই সময় তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত