প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬০ রানের এই জয়ে সিরিজে এসেছে ১-১ সমতা। আর নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও জাগল বাংলাদেশের। শুক্রবার সিরিজের শেষ ম্যাচ জিতলে কিংবা অন্তত ১ পয়েন্ট পেলেই সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। জ্যোতি অবশ্য বিশ্বকাপের চেয়ে সিরিজ জয়ে বেশি মনোযোগী, ‘সমীকরণের চিন্তা এখনো করছি না। প্রথম ম্যাচ হারার এক দিন পরই দল ঘুরে দাঁড়াল, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের অনেক বেশি কাজে লাগবে। দুটি পয়েন্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মোমেন্টাম সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল সেটা পেয়েছে। শেষ ম্যাচে সিরিজ জয়ের একটা চেষ্টা থাকবে। দেশের বাইরে আমরা কখনো সিরিজ জিততে পারিনি। অর্জন করতে পারলে আমাদের দলের জন্য অনেক বড় একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে।’
সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে জ্যোতির ফিফটিতে ১৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। ১২০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন নিগার। বাকিরা ব্যাট হাতে হন ব্যর্থ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন সোবহানা মোসতারি আর ২১ রান করেন স্বর্ণা আক্তার। উইন্ডিজের কারিশমা রামহারাক ৪টি এবং আলিয়াহ আলেইন নেন ৩ উইকেট।
ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে মামুলি এই লক্ষ্যে খেলতে বাংলাদেশের বোলিং তোপে পড়ে ৩৫ ওভারে মাত্র ১২৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ৩১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি স্পিনার নাহিদাই বেশি ভোগান উইন্ডিজদের। বোলারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ৭০ রানে ৬ উইকেট হারায় উইন্ডিজ। সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন শিমেইন ক্যাম্পবেল। ২টি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, রাবেয়া খান এবং ফাহিমা খাতুন। নিজেদের বোলিং সামর্থ্যে পুরোপুরি বিশ্বাস রেখেই এমন জয় এসেছে বলে জানান অধিনায়ক জ্যোতি, ‘প্রথমত আমি মনে করি যে দলের বিশ্বাস ছিল। যদিও রানটা অনেক কম। এসব উইকেটে দুইশর বেশি রান না করলে বোলারদের জন্য কাজটা অনেক কঠিন। তবে আমরা যখন মাঠে নামি, এর আগেই বলছিলাম যে, সবাই যেন জয়ের বিশ্বাস রাখি। কারণ, যদি জায়গা মতো বল রাখতে পারি, পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো উইকেট নিতে পারি, তাহলে (জেতা) সম্ভব।’ ব্যাটিংটা খুব ভালো না হলেও বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। জ্যোতি বলেন, ‘প্রতিটি বোলার, প্রতিটি ফিল্ডার যেভাবে ১১০ ভাগ দিয়েছে এবং চেষ্টা করেছে, সেটা অসাধারণ ছিল। সবার চেষ্টায় এ রকম একটা জয় সম্ভব হয়েছে।’
