সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সম্মেলন ও সফর থেকে ভালো কিছু রেজাল্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দাভোসে প্রচুর প্রাইভেট সেক্টরের এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), সিইওরা (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) আসেন। তাদের সঙ্গে অনেক সরকারপ্রধানদের আলাপ-আলোচনা হয়। এমডিদের দাভোসের ছোট ছোট রুমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলাপ হয়। এক ধরনের ডিল মেট হয়। এই দুদিনে প্রায় ১০টার মতো হেড অব গভর্নমেন্টের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার কথাবার্তা হয়েছে।’
শফিকুল আলম বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূস একাধিক সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশের কথা তুলে ধরে বিনিয়োগ করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। বিজনেসের সেই ক্লাইমেট তৈরি হয়েছে। বিজনেস করার জন্য যে শর্তগুলো রয়েছে, সেগুলো যতটা সহজ করা যায়, সেটা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম পোর্টের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র, জার্মান, তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন এবং আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠীর কারণে বাংলাদেশ একটি রপ্তানি কেন্দ্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এটা থেকে ভালো কিছু রেজাল্ট পাব।’
এদিকে এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা জার্মানির ফেডারেল চ্যান্সেলারির প্রধান ও বিশেষ কার্যাদির ফেডারেল মন্ত্রী উলফগ্যাং শ্মিট, বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটংটার্ন সিনাওয়াত্রা, সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল পররাষ্ট্র বিভাগের ফেডারেল কাউন্সিলর ইগনাজিও ক্যাসিস, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই সংস্কৃতি ও শিল্প কর্তৃপক্ষের চেয়ারপারসন শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রাক্তন মার্কিন বিশেষ দূত জন কেরি এবং প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ড. ইউনূস বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে গতকাল তৃতীয় দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি গত ২১ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে পৌঁছান। ২৫ জানুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
