দেশে আমদানিকৃত মেডিকেল ডিভাইস, যন্ত্রপাতি ও ডায়াগনস্টিক রিএজেন্টের মান নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র বিধিমালার দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
আমদানিকারকরা বলেছেন, এসব চিকিৎসাসামগ্রী নিবন্ধনের নামে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতা করছে। চাহিদা অনুপাতে বৈধভাবে কম পণ্য আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। বাকি পণ্য অবৈধ পথে আসছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
আমদানিকারকরা আরও বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতে নিবন্ধন পেতে যেখানে ১০ ডলার দিতে হয়, সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দিতে হয় ৬৫ হাজার টাকা, সঙ্গে আছে জটিলতাও। এতে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় ও সময় বেড়ে যাচ্ছে; তেমনি রোগীদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ও সংকট দেখা দিচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মেডিকেল ডিভাইস ব্যবসায়ী সমিতির সম্মিলিত জোট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমদানিকারকরা এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে মূল বক্তব্যে ‘ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ১৯৪০ সালের ড্রাগ অ্যাক্ট ও ১৯৮০ সালের নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী মানবদেহের বাইরে ব্যবহৃত মেডিকেল ডিভাইস ও ডায়গনস্টিক রিএজেন্ট ওষুধের সংজ্ঞাভুক্ত না হওয়ায় এসব পণ্য আমদানিতে কোনো অনুমতি নেওয়া লাগত না। সম্প্রতি ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ প্রণয়ন করেছে। এ আইনের মাধ্যমে মেডিকেল ডিভাইস ও রিএজেন্টকে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এই আমদানিকারক বলেন, ওষুধ প্রস্তুতে ব্যবহৃত রেসিপি অনুমোদনে নিবন্ধন করতে হয়। কিন্তু মেডিকেল ডিভাইসের যেহেতু ৯৫ ভাগই আমদানিনির্ভর, তাই এই রেসিপি অনুমোদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমদানি করা ডিভাইস ইউএস-এফডিএ অথবা সিএ ও আইএসও সনদপ্রাপ্ত। তারপরও ফ্রি সেল সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। এটি আবার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করতে হয়, যা সময় সাপেক্ষ। যার কারণে স্বাভাবিক আমদানি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত ও বিলম্ব হয়।
এই আমদানিকারক এসব সামগ্রীর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করা ও নিবন্ধন ফি ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা করার দাবি জানান। তিনি বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রোগীর রোগ নির্ণয় ফি কমে আসবে।
বাংলাদেশ মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরশেদুল আলম পুলক বলেন, ‘এ আইন শুধু ওষুধ ও কসমেটিকসের জন্য। মেডিকেল ডিভাইস ও রিএজেন্টের জন্য আলাদা আইন না থাকায় এগুলোকে এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এসব সামগ্রীর বাজার ৩০ হাজার কোটি টাকা। সেজন্য এসব সামগ্রী আমদানি ও মান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আলাদা অধিদপ্তর ও আইন থাকা উচিত।
এ সময় বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যান্ড হসপিটাল ইক্যুইপমেন্ট ডিলার্স অ্যান্ড এমএফআরএস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইনের মাধ্যমে আমদানিকারকদের নাকানিচুবানি খাওয়ানো হচ্ছে। নিবন্ধনের নামে ডিজিডিএ আর্থিক দুর্নীতি করছে। আমার চাহিদা এক লাখ পিস, অথচ তারা অনুমতি দিচ্ছে ২০ হাজার। এসব কারণে লাগেজ পার্টির মাধ্যমে নকল ডিভাইস দেশে প্রবেশ করছে। এতে প্রকৃত আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও অবৈধ পথে আসা সামগ্রীর কারণে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।’
