কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ডাকাতের উপদ্রব বেড়েছে। সন্ধ্যা নামতেই তাদের তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে হানা দেয় ডাকাতরা। এলাকায় পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় নিজেদের উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছে গ্রামবাসী।
জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি রাতে কুমারখালীর কয়া ঘোষপাড়ায় বিমল ঘোষের বাড়িতে হানা দেয় ডাকাত দল। এসেই সারা বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতরা। এরপর নগদ এক লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। বিমল ঘোষের স্ত্রী লতিকা রানী বিশ্বাস বলেন, ‘ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকেই স্প্রে করে। এতে সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়ি। সেই সুযোগে ডাকাতরা ঘর থেকে টাকা, সোনাদানা নিয়ে গেছে। এখন সন্ধ্যা লাগলেই চিন্তায় হাত-পা ঠা-া হয়ে যায়।’
লতিকা রানী আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় তেমন কোনো পুলিশের তৎপরতা নেই। সে জন্য এলাকায় প্রায়ই চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এতে আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
লতিকা রানীর ছেলে কাজল ঘোষ বলেন, ‘ডাকাতদের স্প্রের কারণে বাড়ির সবাই অচেতন হয়ে পড়েছিল। ঘটনার পরদিন কেউ হাসপাতালে কেউ বাড়িতে চিকিৎসা নিয়েছে। এখনো সবার ঝিমধরা ভাব কাটেনি। আমরা সবাই খুব আতঙ্কে আছি।’
একই রাতে পাশের বাড়ির বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম রিপনের ঘরেও ঢুকেছিল ডাকাত দল। তাদের হাতে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তবে ঢুকতেই তারা টের পেয়ে যান। একপর্যায়ে ডাকাতরা সটকে পড়ে। রিপন কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
রিপনের ছেলে তানভীর আহমেদ বলেন, ‘জানালা খুলে ঘুমাচ্ছিলাম। সে সময় বাড়ির ভেতর থেকে জানালায় শব্দ হচ্ছিল। শব্দের কারণ জানতে জানালার কাছে এলে একজন ডাকাত বাইরে থেকে হাত টেনে ধরে। উঠানে আরও ৮-৯ জন ছিল। তাদের হাতে পিস্তল, চায়নিজ কুড়াল ছিল। তখন রাত ২টা বাজে। ডাকাতরা প্রায় এক ঘণ্টা হাত চেপে ধরে রাখে। অনেক চেষ্টার পর হাত ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েকজনকে ফোন দিলে সবাই বাড়িতে আলো জ¦ালায়। তারপর ডাকাতরা গেট খুলে চলে যায়।’
কয়া স্কুলপাড়া আব্দুল মজিদের স্ত্রী রাফেজা খাতুন বলেন, ‘গত ২৭ ডিসেম্বর আমার বাড়ির দরজা ভেঙে অস্ত্র হাতে ৪-৫ জন ডাকাত ঢুকেছিল। তারা প্রথমে বড় ছেলেকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে সবাইকে জিম্মি করে ৪৫ হাজার টাকা ও ৭-৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে কুমারখালী থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন, ‘পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।’
