বৈরিতা না মিত্রতা!

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:১৬ এএম

বরাবরই চীনের প্রতি কঠোর মনোভাব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিশেষ করে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিযোগিতা গভীর প্রভাব ফেলেছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ সব সময়ই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অতীতে কঠোর অবস্থান থেকে অনেকটাই নমনীয় হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বরং বাণিজ্য চুক্তির কথা বিবেচনা করবেন তিনি।

চীনের ওপর শুল্ক আরোপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা নতুন নয়। প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও চীন বিষয়ে কঠোর সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সবশেষ নির্বাচনের প্রচার থেকে শুরু করে দায়িত্ব নেওয়ার পরও, শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চীনের ওপর আরও ১০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এবার তিনি বললেন, চীনের ওপর শুল্ক আরোপ না করাই ভালো। বরং বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করা যায় কি না ভাবছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, চীনের ওপর আমাদের একটি বড় শক্তি আছে, সেটি হলো শুল্ক। যা তারা চায় না। আমিও চাই না যে আমাকে এগুলো ব্যবহার করতে হোক। তবে এটি চীনের ওপর ব্যবহারের মতো একটি বিশাল শক্তি। তবে চীনের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সামরিক বাহিনী শক্তিশালী করছে।’

এ সময় সম্প্রতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, ফোনালাপে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, টিকটক ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি করা যায় কি না এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এটা করতেই পারি। সাক্ষাৎকারে শি জিনপিংয়ের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘শি আমার বন্ধুর মতো। কোভিডের আগে থেকেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দারুণ। চীন একটি উচ্চাকাক্সক্ষী দেশ এবং তাদের নেতাও খুবই উচ্চাকাক্সক্ষী ব্যক্তি।

ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে হুমকি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবাধে ফেন্টানিলসহ মাদক পাচারের অভিযোগে চীনের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়, চীনের ওপর প্রায় ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এই রিপাবলিকান নেতা। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর চীনের মুদ্রা ইউয়ানের মূল্য অভ্যন্তর-আন্তর্জাতিক দুই বাজারে বৃদ্ধি পায়। অফশোর ইউয়ান ডলারের বিপরীতে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। অন্যদিকে অনশোর ইউয়ান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করলে করপোরেট কর হ্রাসের ঘোষণায় রেকর্ড চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশটির পুঁজিবাজার। সেই সঙ্গে কমেছে তেলের দাম। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের দেওয়া ভাষণের পর, যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারের সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৬,১১৮ দশমিক ৭১-এ শেষ হয়েছে। যা এক নতুন রেকর্ড। এর মধ্য দিয়ে দেশটির পুঁজিবাজার প্রাথমিক মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা হয়ে উঠল। দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প স্বল্প সুদহারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা কোম্পানিগুলোর জন্য তিনি কর হ্রাস করবেন। তবে যারা বিনিয়োগ করবে না, তাদের ওপর শুল্ক বাড়াবেন। এ সময় সৌদি আরব ও তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের প্রতিও তেলের দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার এসব পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত