চীন-শ্রীলঙ্কার ৩৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০১:৩৫ এএম

আবারও চীনা ঋণের দিকে ঝুঁকছে শ্রীলঙ্কা। যে চীনা ঋণের ফাঁদে পড়ে দেউলিয়া হয়েছিল দেশটি, সেই বেইজিংয়ের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বামপন্থি নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের সরকার। সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ১৫টিরও বেশি চুক্তি করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দিশানায়েকে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নেওয়া এই চুক্তিগুলোর অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়াও রয়েছে মুদ্রা বিনিময়, বাণিজ্য, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং জলবায়ু সংক্রান্ত চুক্তি। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে প্রস্তাবিত ৩৭০ কোটি ডলারের তেল শোধনাগার নির্মাণ চুক্তি।

শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী হাম্বানটোটায় একটি তেল শোধনাগার স্থাপনের জন্য চীনা কোম্পানি সিনোপেকের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চীনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ। তিনি বলেন, এটি শ্রীলঙ্কার অন্যতম বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করতে

চাই। তবে শোধনাগারে শোধন করা জ্বালানির কত অংশ রপ্তানি হবে, তা যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেবে চীন ও শ্রীলঙ্কা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জমি, কর ও পানি সংক্রান্ত বিষয়গুলো এক মাসের মধ্যে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাথ।

শ্রীলঙ্কা সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে প্রতিবছরই দেশটির বিপুল অর্থ তেল আমদানির পেছনে ব্যয় করে। ২০২২ সালে দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহ বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে ভেঙে পড়েছিল। তবে ২০২৩ সালে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের একটি আইএমএফ কর্মসূচি গ্রহণের পর থেকেই দেশটি আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হাম্বানটোটায় সিনোপেকের শোধনাগার নির্মাণ চীনের জন্য ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে। বিষয়টি ভারতের জন্য সরাসরি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে। প্রকল্পটি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত