কিশোরগঞ্জের ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের খাসহাওলা গ্রামে ফসলি জমিকে খাল দেখিয়ে খননের উদ্যোগে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভেকু (এস্কেভেটর) দিয়ে মাটি কাটা শুরু করলে স্থানীয়দের বাধায় সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। ভেকু ফেলে পালিয়ে গেছেন মাটি কাটার শ্রমিকরা। গ্রামবাসীর দাবি, যেকোনো মূল্যে তারা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই ফসলি ভূমি রক্ষা করবেন।
জানা যায়, সারা দেশের ভরাট হয়ে যাওয়া খাল খনন করে দুই পাড়ে রাস্তা তৈরিসহ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সালে তিনটি প্যাকেজে বেশ কয়েকটি খাল খননের কাজ পায় স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক খালেক ও হাসান কনস্ট্রাকশন।
এরমধ্যে কোদালকাটি খালটি মেঘনা নদীর মোহনা শিমূলকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর থেকে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ছিদ্দিরচর বাজার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই বিশাল খালটি মহেশপুর থেকে খনন শুরু করে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের খাসহাওলা ও আদর্শপাড়া এলাকায় পৌঁছলে সেখানকার লোকজন বাধা দেন। ফলে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারের লোকজন এলাকা থেকে সরে পড়েছেন। এ নিয়ে ঠিকাদারের লোকজনসহ স্থানীয় নেতারা গ্রামবাসীর সঙ্গে দফায় দফায় মতবিনিময় করেও কোনো সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
গ্রামের হাজি তাহের উদ্দিন, আইউব মিয়া, হোসাইন ও কুদ্দুস মিয়ার দাবি, তাদের নিচু এসব জমি কোনোভাবেই কোদালকাটি খালের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি তাদের জলাভূমি। এখান থেকে তারা বিভিন্ন সময় মাটি তুলে রাস্তা-বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষাকালে এই ভূমি থেকে তারা মাছ শিকার করেন। আর বর্ষার পানি সরে গেলে চাষ করেন বোরো ধান। এই জমিতে প্রতিবিঘায় প্রায় ২৫/৩০ মণ ধান উৎপন্ন হয়। এখানে প্রায় দুইশ কৃষকের জমি আছে। এই জমিতে চাষ করে অনেক কৃষকের সারা বছরের খাবার জুটে।
তারা আরও জানান, বংশপরম্পরায় তারা এই জমির মালিক। তারা আরওয়ার, সিএস, বিএস সব মূলে ভূমির মালিক। এখানকার মৌজা-মাঠপর্চায় সরকারি খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। খাস কোনো ভূমিও নেই এখানে। এখন জোর করে কেউ জমি কেটে খাল করতে এলে জীবনের বিনিময়ে হলেও তারা তা প্রতিহত করবেন।
গ্রামের শাহানা বেগম ও বাচ্চু মিয়ার আশঙ্কা, এখানে খাল খনন করা হলে তাদের রাস্তা, বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি, বাড়িঘর, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল সব খালে ভেঙে পড়বে। তখন তাদের কী হবে, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন তারা?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক খালেক ও হাসান কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম মিয়া জানান, খাল খননটি একটি সরকারি প্রজেক্ট। আমরা টেন্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পেয়েছি। কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে কাজ বন্ধ রেখেছি। সরকারি খাস না ব্যক্তিমালিকাকানা ভূমি, সেটি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ দেখবে। আমরা নির্বিঘেœ কাজ করার পরিবেশ পেলেই কাজ শুরু করব, অন্যথায় নয়।
উপজেলা প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানান, সারা দেশের খাল-পুকুর খনন (আইপিসিটি) প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজে এই কাজগুলো আসে। দুটি প্যাকেজের কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে। একটি বাকি ছিল। এখন ঠিকাদার কাজটি করতে গেলে নিজেদের ভূমি বলে দাবি করেন গ্রামবাসী। পরবর্তী সময়ে আমরা এসিল্যান্ডসহ তার অফিসের সার্ভেয়ারকে নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করি। তখন সার্ভেয়ার জানান, এখানে কোনো খাসজমি নেই। এখন সম্ভবত প্রকল্পটি বাতিল করতে হচ্ছে।
