ইমরুলের স্ত্রীর আট নার্সিং কলেজে মালিকানা শেয়ার

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:০৪ এএম

বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের (দ্য স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশ-এসএমএফবি) সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে একাধিক বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

স্ত্রী তানজিনা খানকে ‘ট্রমা ম্যাটস ও শ্যামলী ম্যাটস’ নামে দুটি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার বানিয়েছেন ইমরুল। এখন পর্যন্ত তার স্ত্রীকে আটটি নার্সিং কলেজের মালিকানা শেয়ার দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনির মিয়াকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। কমিশন অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২৯ দুদকের সহকারী পরিচালক মনির মিয়াকে অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুসন্ধানকালে কোনো ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা কোনো সম্পত্তি ক্রোক করা হলে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুদকের কাছে অভিযোগে বলা হয়, ইমরুল কায়েস ২০০৪ সালে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি ও ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্সের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ক্যাশিয়ার হিসেবে নিয়োগ পান। ওই পদে থাকাকালে তিনি প্রভাব খাটিয়ে শর্তসাপেক্ষে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নতুন সৃষ্ট পদটিতে ওই সময় পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন প্রধান সহকারী মো. মনির হোসেন। কিন্তু বাদ দিয়ে হিসাবরক্ষক পদে মাত্র তিন বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৯ সালে ইমরুল পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। এরপর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির অর্থ আয় করতে থাকেন।

তিনিসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো শিক্ষার্থী অনুষদ থেকে সার্টিফিকেট, মার্কশিট, নাম সংশোধন ও রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজের জন্য গেলে ঘুষ দিতে হয়। কোনো উদ্যোক্তা বা প্রাতিষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক কোনো কাজ থেকে অর্থ আদায় করেন। এসব কর্মকাণ্ডে অনুষদের আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে চাকরির সুবাদে ইমরুল কায়েসের ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. মো. রুহুল হকের ছেলে মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে তার স্ত্রী তানজিনা খানকে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করান। এরপর থেকে স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বেসরকারি ট্রমা ম্যাটস ও শ্যামলী ম্যাটসে কর্মরত আটজনকে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেন।

অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা অবৈধ টাকাকে বৈধ করতে ইমরুল কায়েস সামাজিক সংগঠন উৎসর্গ ফাউন্ডেশন গঠন করেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তির নাম করে সংগঠনের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করে তার অবৈধ আয়কে বৈধ করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ বলা হয়, চট্টগ্রাম মডার্ন নার্সিং কলেজ অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য সৈয়দ জাহেদ হোসাইন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করেন ইমরুল কায়েস। চুক্তি অনুযায়ী ইমরুলের অফিসে এসে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা পৌঁছে দেন সৈয়দ জাহেদ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাশিদা আক্তারসহ আরও দুজন চট্টগ্রাম মডার্ন নার্সিং কলেজ পরিদর্শনের জন্য যান। তবে ল্যাব কক্ষ ছোট হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল। এরপর জাহেদকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন ইমরুল। বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন সৈয়দ জাহেদ। তার অভিযোগের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ মার্চ ইমরুল কায়েসকে সাময়িক বহিষ্কার করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিয়ম অনুযায়ী এই বহিষ্কারাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার কথা থাকলেও অনুষদের সচিবকে ম্যানেজ করে ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ বন্ধ রাখেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইমরুল কায়েস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমার বক্তব্য নিয়েছে। আমার কাছে যেসব রেকর্ডপত্র চেয়েছে, সেগুলো জমা দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি সঠিক নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ অভিযোগের যেহেতু তদন্ত চলছে, তাই কিছু বলা ঠিক হবে না, তদন্তে যা প্রমাণিত হয়। তাই মেনে নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত