ইয়ানিক সিনার আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্বের এক নম্বর পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়। টানা দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্বকে আরও মজবুত করলেন তিনি। রড লেভার অ্যারিনার জমজমাট ফাইনালে আলেকজান্ডার ভেরেভকে সরাসরি সেটে (৬-৩, ৭-৬ (৭-৪), ৬-৩ গেমে) হারিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা নিশ্চিত করেন সিনার।
সিনারের এই শিরোপা জয় তার তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। চলমান ডোপিং বিতর্কের মধ্যেও নিজের মনোযোগ ধরে রেখে এই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট নিশ্চিত করে ক্রস-কোর্ট উইনারের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেন সিনার। এরপর শান্তভাবে হাত তুলে জয় উদযাপন করে তার টিমের সঙ্গে সেই মুহূর্ত ভাগাভাগি করেন।
ম্যাচ শেষে সিনার বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক টুর্নামেন্ট এটি আমার জন্য। আশা করি, এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’
ইতালির ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি গ্র্যান্ড সø্যাম জিতে অনন্য কীর্তি গড়েছেন ২৩ বছর বয়সী সিনার। ম্যাচজুড়ে সিনারের শক্তিশালী সার্ভ ও নিখুঁত ব্যাকহ্যান্ড শটের সামনে অসহায় ছিলেন জার্মান তারকা আলেকজান্ডার ভেরেভ। পুরো ম্যাচে ভেরেভ একটিও ব্রেক পয়েন্ট আদায় করতে পারেননি। প্রথম সেটে ৬-৩ ব্যবধানে সহজ জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটে ভেরেভ টাইব্রেকার পর্যন্ত লড়াই করলেও ৭-৬ (৭-৪) ব্যবধানে হারেন। তৃতীয় সেটেও সিনারের দাপটে ভেরেভ ছিলেন পরাস্ত।
এই জয়ের মাধ্যমে সিনার তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা, ফিটনেস এবং ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের পর এবার ২০২৫ সালেও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রাজত্ব ধরে রাখলেন তিনি।
২৭ বছর বয়সী আলেকজান্ডার ভেরেভের জন্য এটি ছিল আরেকটি হতাশার দিন। টানা তৃতীয়বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে হারলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালের ইউএস ওপেন এবং ২০২৪ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালেও একই পরিণতি হয়েছিল তার।
ম্যাচ শেষে ভেরেভ হতাশা নিয়ে বলেন, ‘এটি সত্যিই কঠিন, এই ট্রফির পাশে দাঁড়ানোটা বেদনাদায়ক। ইয়ানিক আজ দুর্দান্ত খেলেছে। আমি আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ইয়ানিক অনেক ভালো ছিল। ব্যাপারটা এটাই।’
ফাইনালের পর ভেরেভ চেয়ারে বসে মাথা নিচু করে নিজের হতাশা লুকাতে চেয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে তাকে বেশ হতাশাগ্রস্ত দেখিয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্টে ইয়ানিক সিনারের ডোপিং কেলেঙ্কারির খবর টেনিস বিশ্বে ঝড় তোলে। নিষিদ্ধ পদার্থ ক্লোস্টেবলের জন্য পজিটিভ টেস্ট করেছিলেন সিনার। যদিও আন্তর্জাতিক টেনিস সততা সংস্থা তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিল, তবে বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। তাদের দাবি, সিনারের ওপর এক থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
এমন বিতর্কের মধ্যে নিজের মনোযোগ ধরে রেখে সিনার দেখিয়েছেন তার মানসিক দৃঢ়তা। সিনারের জন্য টেনিস কোর্ট হয়ে উঠেছে মানসিক প্রশান্তির স্থান।
তার কোচ ড্যারেন কাহিল বলেন, ‘এমন চাপের মধ্যে কেউই পুরোপুরি অক্ষত থাকতে পারে না। কিন্তু সিনার যতটা সম্ভব নিজের মনোযোগ ধরে রেখেছে, সেটাই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’
২০২৫ সালের এই জয় ইয়ানিক সিনারের ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক। ২০২৪ সালে দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ডেভিস কাপ জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তার এই শিরোপা ধরে রাখার পারফরম্যান্স তাকে আধুনিক টেনিসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
টুর্নামেন্ট জুড়ে তার দুর্দান্ত ফর্ম, বিশেষ করে আলেকজান্ডার ভেরেভের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরাসরি সেটে হারানো, দেখিয়েছে কেন তিনি বর্তমানে টেনিস বিশ্বে অপরাজেয়। সিনারের এই জয় কেবল তার ক্যারিয়ার নয়, টেনিস ইতিহাসের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
