যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় এক লাখ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার ধারাবাহিকতায় দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জারি রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে নথিবিহীন এক লাখ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রবিবার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি দেশব্যাপী অভিযানে ৯৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এফপিকে জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার নথিবিহীন অভিবাসী রয়েছে। তাদের মধ্যে আপাতত এক লাখকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ক্ষমতায় এসে অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে তিনি ২১টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। গত সাত দিনে দুই হাজারেরও বেশি নথিবিহীন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে তাদের নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম টেক্সাস। রিপাবলিকান পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যটির সঙ্গে মেক্সিকোর সীমান্ত রয়েছে। রাজ্যটিতে মেক্সিকো এবং মধ্য-দক্ষিণ আমেরিকার স্প্যানিশভাষী বিভিন্ন দেশের নথিহীন হাজার হাজার অভিবাসী বসবাস করছেন।
এদিকে নথিবিহীন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে যে বিরতিহীন অভিযান শুরু হয়েছে, তাতে তীব্র ভীতি সৃষ্টি করেছে অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে, তেমনি আতঙ্ক উসকে দিচ্ছে বিভিন্ন ভিসায় যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের মধ্যেও। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে রবিবার ৯৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সম্প্রসারিত ক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক ফেডারেল সংস্থা অংশ নেয়। শিকাগোতে পরিচালিত অভিযানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ট্রাম্পের সীমান্তবিষয়ক উপদেষ্টা টম হোমান। মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন আইসিইর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিকাগো পুলিশ এতে অংশ নেয়নি। মায়ামিতে রবিবার একাধিক অভিযান পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে শহরের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন। এতে আইসিইর স্থানীয় কার্যালয় বিভিন্ন অভিযোগে অভিবাসীদের আটক করে।
আইসিইর প্রধান টম হোমান বলেন, অভিযানে ধরা পড়া অপরাধী অভিবাসীদের পাশাপাশি নথিপত্রহীন অভিবাসীরাও বহিষ্কৃত হবেন। রবিবার এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ও বিতাড়নের সংখ্যা ক্রমেই বাড়বে।
