দেশে কর ফাঁকির সংস্কৃতির কারণে কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন ঘুষ প্রথা চলমান থাকায় কর কমালেও ব্যবসায়ীরা কর দিতে আগ্রহী হন না।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার নিয়ে আইসিএবি-ইআরএফ গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এনবিআর সংস্কার কমিটির উদ্দেশে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এনবিআরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আনতে হবে। এ বিষয়ে আপনাদের প্রস্তাব দিতে হবে। আমরা যে ইএফডি আনতে পারিনি। এটার জন্য কাকে দায়বদ্ধ করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এখানে কেউ না কেউ তো দায়বদ্ধ। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট ভুল অডিট করলেও তাদেরও দায় নিতে হবে। এটা মানতে হবে, আমাদের দেশে ঠিকমতো কর আদায় হয় না, কারণ কর ফাঁকি হয়। এটা আমাদের স্বীকার করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা ঘুষ প্রথা আছে, যার মাধ্যমে মেইনটেইন করা হয়। কর কমালেও কর ফাঁকি কমবে না। ভ্যাটর হার ১৫ থেকে ১০ শতাংশ করলেও সবাই দেবে না। ১০ এর নিচে হলেও উনারা (ব্যবসায়ীরা) দেবেন না। সেখানে স্বচ্ছতা আনতে হবে। নাগরিকদের দায়বদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে। এখনো করপোরেট ট্যাক্স ফাইলিং আধুনিকায়ন হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ডিভিএসের সঙ্গে মিলিয়ে এটি করা যেতে পারে। নিজেদের মধ্যে ও তথ্য আদান-প্রদানে সমন্বয় নেই। বাড়ি ও সম্পদের মালিক কী পরিমাণ কর দিচ্ছে তা বের করার কোনো উপায় নেই। এই সংস্কারগুলো প্রয়োজন। এ তথ্যগুলো বের করা খুব বেশি কঠিন না।
যদিও অর্থনীতিবিদ মাসরুর রিয়াজের মতে সংগৃহীত রাজস্ব ব্যবহারের পরিকল্পনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ঠিক না হলে এনবিআররের সংস্কার কাজে আসবে না। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে প্রকল্পের পেছনে ঘুরে বৈদেশিক ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে। আগামীর সরকার ও যদি প্রকল্পমুখী হয় তাহলে অর্থ যোগাতে এনবিআররের উপর চাপ আসবে। তখন এনবিআরকে কর বাড়াতে হবে। ফিসক্যাল ডিসিপ্লিন ঠিক না হলে এনবিআরের উপর চাপ কমবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বে যারা আসবে তাদের ঠিক করতে হবে যে, আমি ঋণ করে ঘি খাব না। কর অতিরিক্ত আদায় ও ঋণ করে ঘি খাওয়ার মতো। এটা ঠিক না হলে সংস্কার বাস্তবায়ন হবে না।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট দেব। তারপর কোনো প্রশ্ন এলে আরেকটি রিপোর্ট দেব। এরই মধ্যে আমরা রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন সংস্কারের ওপরে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট দিয়েছি।
তিনি বলেন, রাজস্ব প্রশাসনে সেপারেশন অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রস্তাব করেছি। দ্বিতীয় বিষয় হিসেবে আমরা ডিজিটাইজেশনকে বেছে নিয়েছি।