সাফ জয়ের পর নারী ফুটবলারদের দীর্ঘ ঘুম অবশেষে ভেঙেছে। ১৫ জানুয়ারি তারা ফিরেছে বাফুফের ক্যাম্পে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে দুই ম্যাচের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন তারা। তবে যত বিপত্তি বাঁধলো আরও দুই বছরের জন্য ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার দায়িত্ব নিতে আসায়। মেয়েরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাটলারের অধীনে তারা ট্রেনিং করবেন না। তবে অন্য কোন কোচের অধীনে ট্রেনিং করতে তাদের আপত্তি নেই। গত অক্টোবরে নেপালে সাফ চলাকালীন ঘটা নানা ঘটনার জেরেই মেয়েদের এই কঠোর অবস্থানে যাওয়া। দলের এক সিনিয়র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আমরা বাটলারকে বয়কট করেছি, তবে ট্রেনিং না। অন্য কোচের অধীনে ট্রেনিং করতে আমাদের সমস্যা নেই।’
এটা চলছে টানা দু’দিন ধরে। গেলো দুদিন অবশ্য মেয়েদের কেবল জিম সেশন ছিল। মাঠে কোন ট্রেনিং ছিল না। জিমে অংশ নিয়েছেন ক্যাম্পে ডাক পাওয়া সকল ফুটবলার। তবে মঙ্গলবার কোচের ডাকে সাড়া দেননি তারা। বাটলার চেয়েছিলেন মেয়েদের সঙ্গে বসতে। সেই সভা বয়কট করেছেন নারী দলের ফুটবলাররা।
এমন কিছুর শঙ্কা ছিল আগে থেকেই। সাফ জিতে আসার পরেই দলের বেশিরভাগ মেয়ে বাটলারকে বিদায় করার দাবী তুলেছিলেন। সরাসরি না বললেও তাদের অবস্থান বাফুফের কর্তাদের কাছে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে মেয়েদের কথায় কর্ণপাত করেনি বাফুফে। উল্টো বাটলারের হাতে নারী দলকে আরও দুই বছরের তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই বাটলার বয়কটের পথে হেটেছেন ফুটবলাররা।
মেয়েদের এই অবস্থানের পেছনে আছে যথেষ্ট কারণ। অক্টোবরে সাফের আগে থেকেই মেয়েদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হয়েছিল কোচের। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ফুটবলারদের চক্ষুশূল বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সিনিয়রদের বাদের খাতায় ফেলার ফন্দী এটেছিলেন তিনি। তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে চেয়েছিলেন সাফের সাফল্য ধরে রাখতে। সেই ভাবনা থেকে সাফে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে বাটলার বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন মারিয়া মান্ডা, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণারানী সরকার, সানজিদা আক্তারের মতো পরীক্ষিত পারফরমারদের। দুর্বল পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে কোনমতে হার এড়িয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলা মনিকা চাকমা ম্যাচ শেষে কোচের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে সংবাদ মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন সাফ জিততে হলে সিনিয়রদের খেলাতে হবে। নইলে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা সম্ভব নয়।
এরপর থেকেই দুই মেরুতে অবস্থানে চলে যায় দল এবং কোচ। ফুটবলাররা সরব হন, ভারতের বিপক্ষে বাঁচামরার লড়াইয়ে কোন অবস্থাতেই কোচকে তারা কোন পরীক্ষা করতে দেবেন না। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জোর দাবির মুখে ভারতের বিপক্ষে সিনিয়রদের নিয়ে একাদশ সাজান বাটলার। তবে মেয়েদের মানসিক চাপে রাখেন প্রতিনিয়ত। ফুটবলারদের অবসর সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো নিয়ে, তাদের পোশাক নিয়েও নানা কটূ কথা বলেছেন। পাশাপাশি সিনিয়ররা পারবে না কিছু করতে-এমন কথাও বলেছেন। তবে এই মেয়েরা কোচের এসব গঞ্জনাকে নেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তারা নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেই ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। পরবর্তীতে সেমিফাইনালে ভুটানকে উড়িয়ে দেয়ার পর ফাইনালে স্বাগতিক নেপালকে আরেকবার হতাশা উপহার দিয়ে জিতে নেয় সাফ শিরোপা। দেশে ফিরে মেয়েরা স্পষ্ট বলেছেন, এই সাফল্যে কোচের কোনই অবদান নেই। তাই একে বিদায় জানানোর জোড় দাবী তোলা হয়। তবে বাফুফে মেয়েদের আবেগকে গুরুত্ব দেয়নি। তাদের বিরোধীতার মুখেই বাটলারের সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তি নবায়ন করে। তাই মেয়েরা বাধ্য হয়ে গিয়েছেন হার্ডলাইনে।
কেবল কোচের ইস্যু নয়, মেয়েদের সঙ্গে গেলো অক্টোবরের পর আর কেন্দ্রীয় চুক্তি করেনি বাফুফে। ফলে মিলেনি মাসিক বেতন। তাছাড়া গত আট ম্যাচ ধরে ম্যাচ ফির টাকাটাও পায়নি ফুটবলাররা। বাফুফে ঘোষিত দেড় কোটি টাকা বোনাস পাওয়ারও কোন নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে কঠিণ অবস্থানে যাওয়া ছাড়া গতিও নেই তাদের। সকল ইস্যু নিয়ে মেয়েরা চায় সরাসরি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বসতে। বাফুফে বস অবশ্য এখন রয়েছেন দেশের বাইরে। নারী কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার এ বিষয়ে এখনই মুল খুলছেন না।
বার্সা কোচের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চেয়েও লা লিগা গুরুত্বপুর্ণ
‘পুরনো রোগ’ সারাতে কোহলির বিশেষ অনুশীলন
১ রানেই স্টিভ স্মিথের ১০ হাজার