প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পর প্রথমবারের মতো খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনকে ঘিরে সদস্যদের মধ্যে সৃষ্ট উৎসাহ উদ্দীপনায় হঠাৎ যেন ভাটার টান পড়েছে। গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র বিতরণের নির্ধারিত সময় শেষে দেখা গেছে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৪১ পদের অধিকাংশতেই থাকছে একক প্রার্থী। কার্যনির্বাহী সদস্যসহ দুএকটি পদে একাধিক ব্যক্তি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেডের নির্বাচনের সহকারী নির্বাচন কমিশনার জামাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, মনোনয়ন পত্র বিতরণের জন্য তিন দিন সময় রাখা হয়েছিল। বুধবার বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি পদের বিপরীতে ৪৮টি ফরম বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল তা আর হচ্ছে না। একটি মাত্র প্যানেলই সবগুলো পদের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছে। প্যানেলের বাইরে গিয়ে নির্বাহী সদস্যসহ ছোটখাটো দুএকটি পদে কয়েকজন ফরম নিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত প্যানেলের বাইরে ফরম জমা দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
জানা যায়, এবারের নির্বাচনে একমাত্র প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মীর গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম। সভাপতির পদের জন্য ফরম নিয়েছেন তিনি। বর্তমান কমিটিতে তিনি সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ফরম নিয়েছেন রহমান ট্রেডিংয়ের আমিনুর রহমান মিন্টু। সিনিয়র সহসভাপতি পদে ফরম নিয়েছেন আহমদ রশিদ আম্।ু বর্তমান কমিটিতে সহসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। সহসভাপতির দুটি পদের জন্য ফরম নিয়েছেন অনিল চন্দ্র পাল ও আফসার উদ্দিন। যুগ্ম সম্পাদকের একটি পদের জন্য দুজন ফরম নিয়েছেন। এরা হলেন আলমগীর পারভেজ ও মাহমুদুল আলম। তারা দুজনই সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলমের সহোদর। এদের মধ্যে যেকোনো একজন প্রার্থিতা রাখবেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট পদগুলোর বেশির ভাগই ছালাম-মিন্টু প্যানেলের প্রার্থীরাই মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।
এদিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শেষ হওয়ার পরপরই এবারের নির্বাচনে এক প্যানেলের সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন এমন কথা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্যানেলের বাইরে গিয়ে আইনবিষয়ক সম্পাদক ও প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক পদের জন্য দুটি মনোনয়ন ফরম কিনেছেন খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্যানেলের বাইরে গিয়েই আমি দুটি পদে ফরম কিনেছি। যেকোনো একটিতে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী দুই ও তিন ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহার ও ১২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা হলেও ইতিপূর্বে কখনো সেখানে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়নি। একক সিন্ডিকেটের কবলে থাকা এই ব্যবসায়ী সংগঠনে ঘুরে ফিরে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর সেখানে নির্বাচনের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গঠন ও সদস্য নবায়ন করে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।
