চলতি বছর যেসব বাংলাদেশি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের জন্য সৌদি আরবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হোটেল বা বাড়িভাড়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া হজ গাইড ও অতিরিক্ত কোটার হজযাত্রীদের সৌদি আরব পর্বের খরচের অর্থ লিড এজেন্সির ব্যাংক হিসাব থেকে সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সৌদি সরকার ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের হজের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। সেই রোডম্যাপে হজের প্রতিটি পর্বের কার্যক্রমের দিন নির্ধারণ করা আছে। এবার হজযাত্রীদের যথাসময়ে সৌদি আরব গমন ও সুষ্ঠুভাবে হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সে দেশের সেবাপ্রদানকারী কোম্পানি ও সংস্থার সঙ্গে সেবা চুক্তি সম্পাদনসহ বাড়ি বা হোটেল ভাড়া আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার চুক্তি রয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সেবাচুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হলে সৌদি সরকার এর কোনো দায়দায়িত্ব বহন করবে না। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশ্যই হজযাত্রীর জন্য হোটেল বা বাড়িভাড়া শেষ করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নিবন্ধনকারী হজযাত্রীর হজে গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ ছাড়া একই সময়ের মধ্যে ক্যাটারিং (ক্যাটারিং নিতে ইচ্ছুক হলে) চুক্তি, পরিবহনসংক্রান্ত চুক্তি ও সার্ভিসসংক্রান্ত চুক্তি করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (হজ শাখা-১) মামুন আল ফারুক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হজ গাইড ও অতিরিক্ত কোটার ২ হাজার ৯৩২ জন হজযাত্রীর প্রাথমিক নিবন্ধনের ৩ লাখ টাকা লিড এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে। সেই টাকা থেকে বিমান ভাড়ার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা জমা রেখে অবশিষ্ট ১ লাখ ৩২ হাজার ১৮০ টাকা সৌদি আরব পর্বের খরচের অর্থ লিড এজেন্সির ব্যাংক হিসাব থেকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামে সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখার ‘এজেন্সিস পিলগ্রিমস ফান্ড পেয়েবল টু কেএসএ’ হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। টাকা জমা দেওয়ার পর তার প্রমাণপত্র ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) পাঠানো আরেক চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে হজ পালনের জন্য নিবন্ধনকৃত হজযাত্রীর সৌদি আরব পর্বের খরচ নির্বাহের জন্য ২১টি ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় ১ হাজার ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ২৪০ টাকা পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ থেকে ৮৯০ কোটি টাকা সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার আরও ১০০ কোটি টাকা পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের হিসাবে যেসব অর্থ ব্যাংকে জমা হয়েছে ও সৌদি আরব পাঠানো হয়েছে, তার একটি প্রতিবেদন ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়।
হজ এজেন্সি মালিকরা জানান, গত ১৩ জানুয়ারি সৌদি সরকারের সঙ্গে হজ চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর ৮৭ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশি হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ২০০ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৮১ হাজার ৯০০ জন হজযাত্রী রয়েছেন। মাত্র ৭০টি লিড এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে কোটা পাওয়ার কথা ১ লাখ ৮০ হাজার। বর্তমানে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা নির্ধারণ করা আছে।
সরকারি হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া শেষ : সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বাড়ি ভাড়ার কার্যক্রম শেষ হলেও বেশিরভাগ বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকরা এখনো তা করতে পারেননি। এতে সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।
সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে মক্কা-মদিনায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের বাড়িভাড়া শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক। মদিনায় বাংলাদেশ হজ মিশনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার আহ্বান জানিয়ে ধর্ম সচিব বলেন, হজ একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় বিষয়। বাংলাদেশ এবং মুসলিম দেশগুলোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালিত হয়, তবে হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে নীতিনির্ধারণ ও সার্বিক বিষয় সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সৌদি আরব মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। সরকারি-বেসরকারি সবাইকে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
ধর্ম সচিব বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্রুততম সময়ে হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করায় ইতিমধ্যে সৌদি সরকার কর্তৃক প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজ এজেন্সি মালিকদের হজের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মক্কায় আসা বেসরকারি হজ এজেন্সির কয়েকজন মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সৌদি সরকার ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মক্কা-মদিনায় বাড়িভাড়া, মিনায় তাঁবু, হজযাত্রীদের পরিবহনসহ হজের সব কার্যক্রম শেষ করতে বলেছে। কিন্তু তাদের নেতারা ব্যস্ত রয়েছেন নির্বাচন নিয়ে; যা এই মুহূর্তে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার অন্তরায়। এসব এজেন্সি নেতারা সরকারের হজ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করছেন না বলেও মনে করেন তারা।
২২ ফেব্রুয়ারি হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
