রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের লাইনে একের পর এক ধরা পড়ছে ত্রুটি, ঘটছে দুর্ঘটনা। পুরনো লাইন এবং অতিরিক্ত লোড পড়ায় এসব ঘটনা বাড়ছে। বর্তমানে যাত্রী পরিবহনে রেলপথের গ্রহণযোগ্যতা বাড়লেও ছোটখাটো দুর্ঘটনার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় ট্রেনের লাইনচ্যুতির কারণে শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে।
রেলওয়ের তথ্যমতে, গত তিন বছরে পশ্চিমাঞ্চলে ৬৬৮টি স্থানে রেললাইন ভাঙা ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও হয়েছে ব্যাপক শিডিউল বিপর্যয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক সেন্সর ব্যবস্থাসহ আধুনিকায়ন করা না গেলে এ সংকট থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়। তবে রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ডুয়েল রেললাইন হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
রেলওয়ের তথ্য মতে, পশ্চিমাঞ্চলে রেলপথ রয়েছে ১ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার। এই লাইনে বর্তমানে চলাচল করে ১২৩টি ট্রেন। ২০২২ সালের পশ্চিমাঞ্চল রেলে লাইন ভাঙা ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে ১০৭টি, ২০২৩ সালে ঘটেছে ২০৪টি এবং ২০২৪ সালে ঘটেছে ৩৫৭টি। যাত্রী নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী, দূষণ কম হওয়াসহ নানা কারণে গণপরিবহন হিসেবে ট্রেনের কদর বাড়লেও রেলপথের নড়বড়ে অবস্থা এবং দুর্বল নজরদারির কারণে রেলভ্রমণ এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব দুর্ঘটনার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে রেলের শিডিউল।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা আহ্সান উল্লাহ্ ভূঞা বলেন, ‘মূলত রেললাইনের মেইনটেন্যান্সের জন্য এ ঘটনা ঘটে। রেললাইনের একটি বয়স থাকে। এটি যখন পেরিয়ে যায় তখন বেশি ভাঙার ঘটনা ঘটে।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘ট্র্যাকে সক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলাচল করে। ডাবল লাইন তৈরিসহ সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। ডিজাইনও করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত হলে এবং অর্থ অনুমোদন পেলেই তা নির্মাণ করা হবে। তখন একটি লাইনে কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও আমরা পাশের লাইন দিয়ে ট্রেন চালাতে পারব। শিডিউলের কোনো সমস্যা হবে না।’
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক. ড. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চল রেলের অন্তত ৬০ ভাগ রেলপথই পুরনো, কমেছে সক্ষমতা। অনেক স্থানে লাইনের ওপর ট্রেন উঠতেই দেবে যায় স্লিপার। আঁকাবাঁকা লাইনে থাকে না সঠিক পরিমাণে পাথর। ফলে লাইন ভাঙা, লাইনচ্যুতির ঘটনা বাড়ছে। নতুন লাইন সংযোজন, আধুনিক সেন্সর সিস্টেম চালু না করলে এ থেকে পরিত্রাণ সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘বাইরের দেশে সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম আছে। আমাদের দেশেও আধুনিকায়ন করতে হবে।’
