স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:২৭ এএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সেলিম জাহাঙ্গীর (৪৫) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার উপজেলার বাঙ্গড্ডা পশ্চিমবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সে সময় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

নিহত সেলিম হেসাখাল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বয়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া গ্রুপের অনুসারী। তিনি হেসাখাল ইউপির খিলপাড়া গ্রামে আলী হোসেন ছেলে। এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া তার নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলার বাসন্ডা গ্রামের ব্যবসায়ী নুরুন নবীর বাড়িতে দাওয়াত খান। সেখান থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে পেরিয়া ইউপির কাকৈরতলা বাজারে বিএনপির মতবিনিময় সভায় যাওয়ার পথে বাঙ্গড্ডা বাজার এলাকায় সেলিম জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেল গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা করেন উপজেলা বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারীরা। দেশি অস্ত্র ও হেলমেট দিয়ে জাহাঙ্গীরের মাথা আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্মরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

বর্তমানে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত। ২০০১ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালে নতুন করে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া দলীয় মনোনয়ন পেয়ে পরাজিত হন। তবে সে সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক থেকে ২০১৯ সালের দিকে স্বেচ্ছায় দল থেকে অব্যাহতি নেন। শেষে নজির আহমেদ ভূঁইয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। তিনি এ পদে এখনো রয়েছেন। তিনজনেই বর্তমানে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য আবু সায়েম শিপু বলেন, কাকৈরতলা বাজারে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে সেই মতবিনিময় সভা পন্ড করতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এ হামলা হয়েছে। সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনা আমি কিছুই জানি না। এই মাত্র আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে শুনেছি। খবর নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলব।’

আবদুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পেটুয়া বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে একজনকে ঘটনাস্থলে মেরে ফেলে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জেনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নতুন নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দিনশেষে আমরা সবাই বিএনপির লোক। এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য কাম্য নয়।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো এ ঘটনায় মামলা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত