সোয়া কোটি টাকায় কেনা ১২ রান!

“এটা তো অবশ্যই আদর্শ নয়। দলের সঙ্গে যদি অন্তত ২-৩ দিন না থাকে, তাহলে তো দলের সদস্যদের চেনাও কঠিন হয়ে যায়।”

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৫ পিএম

সকালে ঢাকায় এসে টিম হোটেলে গিয়ে ব্যাগ রেখেই তিন ক্রিকেটারকে চলে আসতে হয়েছে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। কোনোরকম বিশ্রাম বা অনুশীলন ছাড়াই দুপুরে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলেছেন তারা। তিন জনের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি দলের। তাদের সম্মিলিত সংগ্রহ মোটে ১২ রান।

রানের সংখ্যা কম হলেও তিনজনের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির খরচ অনেক। এক লাখ ডলার! বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। 

রংপুরের বাকিরাও পারেননি তেমন কিছু করতে। মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে গিয়ে খুলনা টাইগার্সের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে তারা। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের সহকারী কোচ আশরাফুল ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের উদাহরণ তুলে ধরলেন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর নিয়মের ক্ষেত্রে।
“ইংল্যান্ডে বিদেশিরা লিগ পর্বে তিনটি (আসলে একটি) ম্যাচ খেললে তারপর নকআউট পর্বে খেলার অনুমতি দেয়। আমাদের বিপিএলে এই ধরনের কোনো নিয়ম নেই। খেলার দিন সকালে নিয়ে এলেও খেলতে পারে। এটা তো অবশ্যই আদর্শ নয়।”

“আমাদের গত বছর এই জিনিসটাই হয়েছিল। প্রচুর বিদেশি ক্রিকেটার তারা দুই ম্যাচ পরপর পরিবর্তন করেছে। এবার প্লেয়ার্স ড্রাফটে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, যারাই খেলবে তারা যেন সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ খেলতে পারে।”

শুরুতে নিজেদের পরিকল্পনায় সফলও ছিল রংপুর। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তাদের হয়ে খেলেছেন স্টিভেন টেইলর, আকিফ জাভেদ, ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ। কিন্তু জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় চট্টগ্রাম পর্ব শেষে পাকিস্তানে চলে যান খুশদিল।ফর্ম না থাকায় টেইলরের ওপর ভরসা রাখতে পারেনি রংপুর।

“খুশদিল আকিফ, ইফতিখার কিন্তু সবগুলো ম্যাচ খেলেছে। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ায় খুশদিলের চলে যেতে হয়েছে। শুরু থেকে টেইলর ছিল। সে জিএসএলে (গ্লোবার সুপার লিগ) যেভাবে খেলেছে এখানে সেটা পারেনি। সেই কারণেই ম্যানেজমেন্ট চেষ্টা করেছে বড় নামগুলো আনার।”

সকালে ঢাকায় এসেই দুপুরে মাঠে নেমে পড়েন আন্দ্রে রাসেল, ফলাফল ৪ রানে আউট। ছবি: দেশ রূপান্তর

“এটা তো অবশ্যই আদর্শ নয়। দলের সঙ্গে যদি অন্তত ২-৩ দিন না থাকে, তাহলে তো দলের সদস্যদের চেনাও কঠিন হয়ে যায়।”

দল এভাবে ভেঙে পড়ায় আশরাফুল হতাশই হয়েছেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়দের আরও একটু সাহস নিয়ে খেলা উচিত ছিল। যেহেতু বড় ম্যাচ, প্রথম ওভারে একটা আউট হতেই পারে। তারপর এসে আমাদের খেলোয়াড়েরা যেভাবে ডাউন হয়ে গেছে, এটাতে আমার খারাপ লেগেছে। আরেকটু আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা যেতে পারত, কারণ পাওয়ার প্লেতে দেখেন পরপর তিন ওভার স্পিন বল করেছে।’

লিগ পর্বের প্রথম আট ম্যাচই জিতেছিল রংপুর। তখনই প্লে-অফ খেলা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাদের। কিন্তু এরপর টানা চার ম্যাচ হেরে যায় রংপুর। এবার এলিমিনেটর হেরে টুর্নামেন্ট থেকেও বিদায় নিশ্চিত হলো।

 
এর পেছনেও স্থানীয়দের দায় দেখেন আশরাফুল, ‘শেষ পাঁচটা ম্যাচে আমাদের স্থানীয় যারা, তাদের বড় শট খেলতে হতো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আপনার জিততে হয় এভাবেই। দেখেন আমাদের জিএসএল জেতার কারণ কিন্তু খুশদিলের ওই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংটা, আমরা ১১৩ রান করেছিলাম, ওই জায়গায় ও ৩০ বলে ফিফটি করেছিল। এই রকম একটা খেলোয়াড়ের হওয়া উচিত ছিল। আমরা আশা করেছিলাম, হয় শেখ মেহেদি, সাইফ হাসান একটু আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলবে ১০ বলে ২০, ২০ বলে ৪০-ওই জিনিসটাই মিসিং ছিল।’
 
তারকা বিদেশিদের ভিড়ে এই ম্যাচের একাদশে সুযোগ মেলেনি ইফতেখার আহমেদের। অথচ এই ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টে রংপুরের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৩০৫ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত